নড়াইল-২ আসনের সংসদ-সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকায় তার মেয়ের নাম দুই স্থানে রয়েছে। শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট ও বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য শুরু হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি শনিবার গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই তালিকাটি সঠিক বলে নিজেই নিশ্চিত করেন সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু। তার পিএস এ কাজটি করেছেন জানিয়ে আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এই অর্থ বছরের জন্য এমপিদের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকার ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদানের জন্য দিয়েছেন। আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না, আমার পিএস একদিন বলল যে এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে। আমি বলেছিলাম, ‘সব ইউনিয়ন থেকে নিয়ে (তালিকা) নাও। সে বলল, ‘সে বলল অফিস থেকে বলেছে,’ একটা তালিকা যে কোনো ভাবে দিয়ে, কয়টা নাম দিয়ে-তোমরা এটা (বরাদ্দ) নিয়ে যাও। পরে সেটা এমপি সাহেব যে-ভাবে চাইবে ওভাবে বিতরণ করতে পারবে। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড ঢাকায় তার (পিএস) কাছে ছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, ‘প্যাডে তুমি একটা তালিকা রেডি করে জমা দিয়ে দাও, তোমার চেনা-জানাদের দিয়ে। সেই চেনা-জানা জায়গাগুলোয় আমার পরিবার বা এলাকার লোক ধরে ফেলছে আরকি বেশি। সেটা ধরে সে তালিকা দিয়েছে। তালিকা অনুকূলে টাকা এসেছে সেটিও জানতেন না জানিয়ে তিনি বলেন, টাকাটাও যে আসছে আমি জানি না। ফেসবুকে আসার পর আমি ইউএনওর মাধ্যমে জেনেছি। আমার যে তালিকাটি (প্রকৃতপক্ষে যাদেরকে দিতে চান), আজকে আমি ইউএনও সাহেবদেরকে আমি দিয়ে দেব যে, এই তালিকা অনুযায়ী তারা এটা বিতরণ করবে। তবে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি. এম রাহসিন কবির বলেন, ‘এমপির ডিও লেটার অনুযায়ী দেওয়া তালিকায় থাকা নামে এই অনুদান সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়ে আসে। নীতিমালা অনুযায়ী, ‘সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ হয়ে এসেছে, তাদেরকেই দিতে হবে। এর বাইরে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে যদি কেউ না আসে, তার টাকা ফেরত যাবে।’ কিন্তু এখান থেকে নতুন তালিকায় দেওয়ার সুযোগ নেই। যদি তালিকা সংশোধন করতে হয়, তাহলে সচিবালয় থেকেই করে আনতে হবে।’





