ইমরান হোসেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। থাকেন মধ্যবাড্ডার ময়নারবাগে। গুলশান অ্যাভিনিউতে তার অফিস। ঝুম বৃষ্টির সকালে অফিসের ড্রেস কোড মেনে পোশাক পরেছেন তিনি। পরে সাদা শার্ট ও নেভি-ব্লু প্যান্ট, গলায় টাই। ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে ভবনের নিচে নেমে দেখতে পান গলিতে হাঁটুপানির বেশি।
পরনের পোশাক বাঁচিয়ে ভারী বৃষ্টিতে জমা পানি মাড়িয়ে কীভাবে অফিসে যাবেন, তা নিয়ে যেন মহাবিপাকে ইমরান। তার ভাষ্য, ‘আজ সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস। বৃষ্টি হচ্ছে, ছাতা নিয়ে বের হলাম। কিন্তু গলিতে এত পানি তা খেয়াল করিনি। আশপাশে তো রিকশাও নেই। ব্যাংকে জব করি, একটা ড্রেস কোড আছে। সেটা তো মেনে চলতেই হবে। এ ড্রেসে প্রায় কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কীভাবে পারবো, আর কীভাবে অফিস যাবো, মাথায় আসছে না কিছুই।’
আরও পড়ুন
বৃষ্টিতে ভোগান্তির যেন শেষ নেই
শুধু ব্যাংকার ইমরান নয়, ভারী বৃষ্টিতে রোববার এমন বিড়ম্বনায় পড়েছেন অধিকাংশ চাকরিজীবী। আকরাম হোসেন নামে আরেক চাকরিজীবী বলেন, অফিস খুব বেশি দূরে নয়। গলি পার হয়ে মূল রাস্তায় যেতে পারলেই হতো। কিন্তু গলিতে যে পানি জমেছে, তাতে এখান থেকে যাওয়াটাই কষ্ট। এ পথ পাড়ি দিতে গেলেই তো ভিজে যাবো।
বাধ্য হয়ে পানিতে নামতে দেখা যায় বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুন নাহারকে। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, অফিস ৯টায়। আর ১০ মিনিট সময় আছে। দাঁড়িয়ে থাকলে দেরি হয়ে যাবে। রিকশা পেলাম না। কাপড় ভিজিয়ে পানি পার হতে হচ্ছে। কিছুই করার নেই।
এদিকে, থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় কাকভেজা হয়ে অফিসে যেতে হচ্ছে চাকরিজীবীদের। বৃষ্টি থেকে রক্ষায় কেউ ছাতা মাথায়, কেউ পলিথিনে মুড়িয়ে রেখেছেন নিজেকে। রাস্তায় বের হওয়া কর্মজীবীরাও ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে গন্তব্যে ছুটছেন।
আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। মধ্যরাত থেকে ঢাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। ভোর থেকে শুরু হয় টানা বৃষ্টি। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া আকাশ মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, দিনের তাপমাত্রা সাধারণত অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এএএইচ/এমআরএম








