দেশের বেসরকারি পত্রিকা, টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন পোর্টাল- সব মিডিয়ার ব্যাংক হিসাব একত্র করলে দাঁড়ায় ২৪১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চিত্র।গণমাধ্যমের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই প্রকাশিত হলো এই তথ্য। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে মিডিয়া খাতের জন্য খোলা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবগুলোতে এই অর্থ জমা রয়েছে। এর মধ্যে চলতি হিসাবে আছে ১৬৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, বাকি ৭২ কোটি ৭২ লাখ টাকা মেয়াদি ও বিশেষ নোটিশে উত্তোলনযোগ্য হিসাবে।খাতভিত্তিক হিসাব বলছে, টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ব্যাংক হিসাবে রয়েছে ৯৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অনলাইন পোর্টালগুলো এগিয়ে আছে সামান্য ব্যবধানে- তাদের হিসাবে ৯৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। পত্রিকার জন্য নির্দিষ্ট হিসাবে আছে ৪২ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আর রেডিও খাতের অবস্থা একেবারেই করুণ। সব রেডিও মিলিয়ে ব্যাংকে তাদের জমা মাত্র ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, মিডিয়া খাতের বেশিরভাগ টাকাই রাখা আছে চলতি হিসাবে- যেখানে সুদ নেই। ১৫৫ কোটি ৯ লাখ টাকা আছে সুদবিহীন চলতি হিসাবে, আর সুদসহ চলতি হিসাবে আছে ১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।বাকি অর্থ বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে আছে- মেয়াদি আমানতে ৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, স্পেশাল নোটিশে উত্তোলনযোগ্য হিসাবে ৫৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং দেশীয় বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে ১০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।পত্রিকাগুলোর হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের বেশিরভাগ টাকা চলতি হিসাবে- সুদবিহীন ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, সুদসহ ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। বিশেষ মেয়াদি হিসাবে আছে ১২ কোটি ৫ লাখ টাকা, আর বৈদেশিক মুদ্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।টেলিভিশন খাতে সবচেয়ে বেশি টাকা রাখা আছে সুদবিহীন চলতি হিসাবে- ৪৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। সুদসহ চলতি হিসাবে ১০ কোটি ২ লাখ টাকা। বিশেষ মেয়াদি হিসাবে ৩৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা, দেশীয় বৈদেশিক মুদ্রায় ৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং দীর্ঘ মেয়াদি হিসাবে ১০ কোটি টাকা।প্রতিবেদনটি মিডিয়া খাতের আর্থিক স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক অবস্থার একটি আভাস দিচ্ছে। বিশেষ করে রেডিও খাতের দুর্বল অবস্থা এবং অনলাইন পোর্টালগুলোর ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা থাকা- দুটি বিষয়ই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।অনলাইন পোর্টালগুলোর হিসাবে ৯৮ কোটি টাকা জমা থাকা ইঙ্গিত দেয়, ডিজিটাল গণমাধ্যম ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। অন্যদিকে, রেডিও খাতে এই স্বল্প অর্থ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনীতি
ব্যাংকে মিডিয়ার ২৪১ কোটি টাকা, টিভির চেয়ে এগিয়ে অনলাইন

শেয়ার করুন







