চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ বন্দর বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে সমাবেশ ও মশাল মিছিল করেছে ‘বন্দর রক্ষা করিডরবিরোধী আন্দোলন’। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ থেকে বক্তারা চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিল এবং তাদের ভাষায় ‘অসম’ ও ‘দাসত্বমূলক’ সব চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা শাহবাগ থেকে মশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি টিএসসি হয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শাহবাগে এসে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি স্বার্থের কাছে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাদের দাবি, সেন্ট মার্টিন, সোনাদিয়া, মাতারবাড়ি ও চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, তা বৃহৎ শক্তির ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তারা বিশেষভাবে অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট (এসিএসএ) এবং জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (জিএসওএমআইএ)-এর প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, এসব চুক্তি কার্যকর হলে বিদেশি সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের বন্দর ও বিমানঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ পাবে এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধি পাবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. আবু সাঈদ। এতে বক্তব্য দেন—কেন্দ্রীয় খেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার হায়াত, আদিবাসী যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনিরা ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল)-এর সভাপতি গৌতম শীল। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ।