গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় মাহফুজুল ইসলাম নামের এক সহকারী শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলেরই সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষক জাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলার নূতন দুলাল ভরট দ্বি-মুখী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ রোববার চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে বিদ্যালয় মাঠে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
সকাল ১০টার দিকে অবস্থান কর্মসূচির সময় শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। পরে শিক্ষক ও স্থানীয়রা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহফুজুল ইসলামের কাছে দীর্ঘদিন ধরে একই বিদ্যালয়ের সাময়িক বহিষ্কৃত সহকারী শিক্ষক জাহেদুল ইসলাম দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে বিদ্যালয়ে চাকরি করতে দেওয়া হবে না বলেও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ২ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নবম শ্রেণির চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ডিউটিতে থাকাকালে জাহেদুল ইসলাম স্কুলে প্রবেশ করে আবারও দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাহেদুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক ছামছুল হক এবং দপ্তরি আব্দুল খালেক তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, তাদের শিক্ষককে স্কুলের ভেতরে মারধর করা হয়েছে। তারা এই ঘটনায় একটি সুষ্ঠু বিচার চায়। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত তারা চলমান অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি শিক্ষকই নিরাপদ না থাকেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে একটি নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করবে।
শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিও জানান তাঁরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মাহফুজুল ইসলাম বলেন, `এনটিআরসিতে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে এ স্কুলে শিক্ষকতা করছি। কিছুদিন ধরে আমার কাছে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছেন সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষক মো. জাহেদুল ইসলাম। এতে অস্বীকৃতি জানালে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছিলেন তিনি আমাকে। এ অবস্থায় পরীক্ষার হলে ডিউটি পালন করার সময় সেখানে ঢুকে আবারও আমার কাছে টাকা দাবি করেন। আমি এতে রাজি না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সামনে আমাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। ওইদিন রাতেই আমি থানায় এজাহার দেই।'
অভিযোগের বিষয়ে সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, `বিদ্যালয়ে যাইনি আমি। সে কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করেছেন কি না জানি না।' তিনি আরও বলেন, `আমি কোনো শিক্ষকের কাছে টাকা চাঁদা দাবি করিনি এবং কাউকে মারধরও করিনি। মিথ্যে মামলা দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে আমাকে। তাছাড়া আমাকে বিধিবহির্ভূতভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।'
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহেনুর বেগম পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, `শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসানোর জন্য আমরা বহু চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা কোনো ভাবেই মানছেনা আমাদের কথা। তারা বলছে যে, শিক্ষক মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না।' তিনি বলেন, বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক ও জেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এবং পরে বর্জন করা পরীক্ষাটিও নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জাহেনুর বেগম আরও বলেন, `প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে জাহেদুল ইসলামের কম্পিউটার সার্টিফিকেট জাল। সে কারণে তাকে কমিটি সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে।'
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, `এই ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।' পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।








