রাজশাহীতে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করায় শাহীন আলী নামে এক কলেজছাত্রকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শাহীন আলী রাজশাহী নগরের শাহ মখদুম থানায় একটি মামলা করেছেন।
শাহীন আলী রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী এবং রাজশাহী রুকইয়াহ অ্যান্ড হিজামা সেন্টারের পরিচালক। মামলায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল মণ্ডল আহাদ, যুবদল কর্মী মো. পলাশ, ছাত্রদল কর্মী মো. আজিজুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩ জুলাই) জুমার নামাজের আগে শাহ মখদুম থানা মোড়ে একটি দোকানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতে যান শাহীন। এ সময় তিনি দেখতে পান, এক বৃদ্ধকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি চাঁদা আদায় করছেন। বৃদ্ধের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো ৩০ হাজার টাকা অভিযুক্তদের দিতে বলা হচ্ছিল।
এ সময় শাহীন ঘটনাটির প্রতিবাদ করেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে কাঠ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তাঁর প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন ভেঙে যায়।
মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত হলে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চিকিৎসা শেষে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শাহ মখদুম থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে পুলিশ গড়িমসি করলেও পরে মামলা গ্রহণ করে।
ভুক্তভোগী শাহীন আলী বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। একজন বৃদ্ধের কাছ থেকে জোর করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছিল। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এর প্রতিবাদ করা আমার নৈতিক দায়িত্ব মনে হয়েছে। এর জন্য আমাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
অভিযুক্ত শাকিল মণ্ডল আহাদের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে শাহ মখদুম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আলীম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মারধরের ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’








