কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (সিপিএল) নবায়ন ও পরীক্ষায় সুযোগ করে দেওয়ার নামে এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় আটক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জুনিয়র লাইসেন্স পরিদর্শক এইচ. এম. রাশেদ সরকারকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি রাশেদকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায়ে ঘোষণার সময় রাশেদ সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে তাঁকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ফিলিপাইন থেকে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (সিপিএল) অর্জনকারী মো. রাকিব হাসানের বাংলাদেশি লাইসেন্স রূপান্তরের আবেদনটি রাশেদ সরকার অনলাইন সিস্টেমে বাতিল করে দেন। পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

রাকিব হাসানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ‘বিএফসি’ রেস্টুরেন্টে ফাঁদ পাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেখানে রাকিব হাসান বেবিচকের রাশেদকে এক লাখ টাকা দেন। দুদক কর্মকর্তারা ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন রাশেদ সরকারকে।

এই ঘটনায় ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক তাহসীন মোসাবিল হক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ জুন তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ কালাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

২০২৩ সালের ৬ মার্চ এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘এই ধরনের মামলার রায়ে একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন হলো।’ তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সাক্ষীদের সাক্ষ্যে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

উল্লেখ্য, ঘুষসহ হাতেনাতে ধরা পড়ার পর ওই সময় রাশেদ সরকার ব্যাপক সমালোচিত হন। পরে তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।