প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর সোমবার প্রথমবার বরিশাল সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই সফর ঘিরে এখানে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সেই সঙ্গে আশায় বুক বেঁধেছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সব সময়ের অবহেলিত এই অঞ্চলের উন্নয়নে জরুরি ৪ দাবি এবার পূরণ হবে-এমনটাই তাদের আশা। নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতারাও এসব দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
৬ জেলা আর ৪২ উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল বিভাগে সংসদীয় আসন রয়েছে ২১টি। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে এর ১৮টিতেই জিতেছে বিএনপি। এ কারণে বিএনপির কাছে এখানকার মানুষের চাওয়াও একটু বেশি। যদিও সদ্যঘোষিত জাতীয় বাজেটে সেই আশার প্রতিফলন ঘটেনি। দেশের প্রায় সব বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা প্রকল্প আর বরাদ্দ উল্লেখ থাকলেও বাজেটে বরিশাল প্রসঙ্গে কিছুই বলা হয়নি। এ নিয়ে সংসদে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বক্তব্য দেয়েছেন বরিশাল অঞ্চলের প্রায় সব সংসদ-সদস্য। খোদ স্পিকার পর্যন্ত এ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। সেই সঙ্গে দাবি আদায়ে বরিশালের প্রায় প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভও হয়েছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে-ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেন সড়ক, সমুদ্রসৈকতের ভাঙন রোধ করে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র করা, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এবং বরিশালে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা। বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট এবায়েদুল হক চান বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালুর পর একদিকে যেমন ঢাকা-কুয়াকাটা সড়কে যানবাহনের চলাচল আগের তুলনায় কয়েকশ গুণ বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে দুর্ঘটনা। সরু সড়কে যানজটের কারণে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এখানে শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না। সড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করা এখন খুবই জরুরি। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেবেন।’ বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ-সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কুয়াকাটা এখন বিশ্বখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র। অথচ সাগর ভাঙনে হুমকির মুখে এই সমুদ্রসৈকত। ভাঙন রোধ ও মেরিন ড্রাইভ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাখিল করা প্রকল্প এ পর্যন্ত চারবার ফেরত পাঠিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রশ্নেও পিছিয়ে আছে কুয়াকাটা। আমাদের দাবি, কুয়াকাটাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা হোক। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে সেই ঘোষণা আসবে বলে আশায় আছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।’
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য এখানকার বাসিন্দাদের রাজধানীতে ছুটতে হয়। এখানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল হলে সেই দুর্ভোগ আর থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি, এবারের সফরে তিনি এ ব্যাপারে ইতিবাচক ঘোষণা দেবেন। ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, ‘এখনো দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন গ্যাসসমৃদ্ধ জেলা ভোলা। সড়কপথে যোগাযোগ না থাকায় ভূগর্ভস্থ গ্যাসের খনি থাকার পরও এখানে গড়ে উঠছে না শিল্প-কলকারখানা। সন্ধ্যা নামলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এই জেলা থেকে মুমূর্ষু রোগীকেও নেওয়া সম্ভব হয় না রাজধানী বা বিভাগীয় সদর হাসপাতালে। নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোলা-বরিশাল সেতু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আশা করি, এবারের সফরে তিনি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেবেন।’ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বরিশাল-১ আসনের সংসদ-সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সভা করবেন। যেসব দাবির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো তো এই অঞ্চলের প্রাণের দাবি। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে ইতিবাচক ঘোষণা দেবেন, সেটাই সবার প্রত্যাশা।’
ব্যাপক প্রস্তুতি, বিএনপি ও যুবদলের আনন্দ মিছিল : প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল আগমন উপলক্ষ্যে শনিবার সকালে নগরীর সদর রোড থেকে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আনন্দ মিছিল করেছে যুবদল মহানগর বিএনপি। এ সফরকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সভা করছে প্রশাসন ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কর্মসূচির স্থলে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল ও বৃক্ষরোপণ স্থান পরিদর্শন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন ও সফল করতে শতভাগ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।








