শহীদ শামসুজ্জোহা হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দ্বারা অবৈধভাবে সিট দখলের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মানববন্ধন করেছে শাখা ছাত্রশিবির। এসময় শতভাগ আবাসন নিশ্চিত, অনাবাসিক ভাতাসহ তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল।
সোমবার (২৯ জুন) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজিত হয়।
মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হলেই অবৈধভাবে সিট দখলের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রাবি ছাত্রদলের সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নাসিম আহমেদ অবৈধভাবে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে অবস্থান করছেন। এছাড়াও শহীদ শামসুজ্জোহা হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শাহরিয়ারের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন হলে সিট দখল করে আছেন। বৈধ আবাসিকতা না থাকলেও ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে অবৈধভাবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে থাকছেন ফার্মেসি বিভাগের নাহিদ, বাংলা বিভাগের আরিফ ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের লতিফুর।’
এ সময় শাখা ছাত্রশিবিরের মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী সজীব বলেন, ‘সিট দখলের প্রতিবাদে আজকের এ মানববন্ধনে ছাত্রদলকে শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি করার আহ্বান জানাই। কিন্তু রাজনীতির নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মতো সিট দখলের রাজনীতি, টেন্ডারবাজি ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের ক্যাম্পাসগুলোকে দখলমুক্ত করা হয়েছে। তা কোনো ধরনের সংগঠনের কারণে বৃথা হতে দেব না। ছাত্রশিবির থাকতে বাংলাদেশের কোনো ক্যাম্পাসে হল দখলের রাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না।’
শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘১৬ জুলাই ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করার মধ্য দিয়ে হলদখল, সিট-বাণিজ্য ও গেস্টরুম কালচারের অবসান ঘটেছিল। নতুন করে ছাত্রদল আবারও তা শুরু করার চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কাজে সহযোগিতা করছে হল প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কারণ ছাত্রদল নেতাদের ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার পর এক বছর, দেড় বছর হয়ে গেলেও তাদের সিট কর্তন করা হচ্ছে না। অথচ একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে শুধু দলীয় পরিচয়ের কারণে। সুস্থ নীতিমালা প্রণয়ন করে বৈধ পদ্ধতিতে সব শিক্ষার্থীর সিট নিশ্চিত করতে হবে।’
এফএ/এএসএম








