বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে ছত্রাকজনিত রোগ। ফাঙ্গাল ওষুধপ্রতিরোধী বা ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট হয়ে দিন দিন আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। অথচ জাতীয় স্বাস্থ্য পরিকল্পনায় বিষয়টি এখনো অনেকাংশেই উপেক্ষিত। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশকে সহায়তা করতে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

‘ব্লুপ্রিন্ট ফর স্ট্রেনথেনিং রেসপন্সেস টু ফাঙ্গাল ডিজিজ অ্যান্ড অ্যান্টিফাঙ্গাল রেজিস্ট্যান্স’-এ রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং নজরদারি জোরদারের জন্য বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। প্রতি বছর বিশ্বের ৩০ কোটিরও বেশি মানুষ ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত হন। এসব রোগের কারণে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা দেখা দেয় এবং স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়।

ছত্রাকজনিত রোগের মধ্যে দাদ, ত্বক ও নখের সংক্রমণের মতো সাধারণ সমস্যা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে প্রাণঘাতী গুরুতর সংক্রমণও। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগী, এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী এবং ক্যানসার রোগীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

একই সময়ে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের প্রতি প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়ছে। মানুষের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রাণী ও কৃষিক্ষেত্রে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ও অনুরূপ রাসায়নিকের ব্যাপক ব্যবহার এবং পরিবেশে এসব রাসায়নিকের উপস্থিতি এ প্রবণতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এত বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অনেক দেশের চিকিৎসানীতিতে ছত্রাকজনিত রোগের বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। এমনকি বৈশ্বিক রোগের হিসাব, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর), সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং ওয়ান হেলথ কৌশলেও বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।

প্রায় এক মাস আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সবিষয়ক হালনাগাদ বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও পরজীবী জীবাণু যখন ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, তখন সংক্রমণের চিকিৎসা আরো কঠিন হয়ে পড়ে। এটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়নগত চ্যালেঞ্জ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. জোঁ পিয়ে নামাজি বলেন, “৭৯ তম বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদে অনুমোদিত হালনাগাদ কর্মপরিকল্পনায় অ্যান্টিফাঙ্গাল রেজিস্ট্যান্সকে এএমআরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এখন আর বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নতুন এই ব্লুপ্রিন্ট দেশগুলোকে এগিয়ে যেতে বাস্তবসম্মত একটি পথ দেখাবে।”

এই নির্দেশিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালে প্রকাশিত ফাঙ্গাল প্রায়োরিটি প্যাথোজেনস লিস্টের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ১৯টি ছত্রাকজনিত জীবাণু বা জীবাণু গোষ্ঠীকে জরুরি গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।

নতুন ব্লুপ্রিন্ট তৈরিতে বিশ্বের সব অঞ্চলের ১৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। তাদের মধ্যে ক্লিনিক্যাল মাইকোলজি, রোগ নির্ণয়, ওষুধের যথাযথ ব্যবহার, নজরদারি, নীতিনির্ধারণ, জনস্বাস্থ্য এবং রোগীর অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন। এর লক্ষ্য হলো—বিশেষ করে সীমিত সম্পদের দেশগুলোতে জ্ঞান, রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, নজরদারি, গবেষণা এবং দক্ষ জনবলসংক্রান্ত ঘাটতি দূর করতে সহায়তা করা।

*ইউএন নিউজ অবলম্বনে