নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আলোচিত ইমন হত্যা মামলা প্রত্যাহার না করায় বৃদ্ধ বাবা ওমর খৈয়ামকেও (৭০) কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে কিলার জাহিদ ও তার বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে ফতুল্লার মাসদাইর কাজিবাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এসময় জাহিদ ও তার বাহিনী গুলিও ছুড়েছে।

আহত ওমর খৈয়ামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শহরের খানপুর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি মাদক মামলায় নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার দেড় ঘণ্টা পর মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করে কিলার জাহিদ ও তার বাহিনীর লোকজন। এ ঘটনায় ইমনের বাবা ওমর খৈয়াম বাদী হয়ে জাহিদ ও তার বাহিনীর সদস্যদের নামে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

ইমনের পরিবারের দাবি এ মামলা দায়েরের পর থেকে জাহিদ প্রায় সময় ফোন করে ও নানাভাবে মামলাটি প্রত্যাহারের হুমকি দিতেন। মামলা প্রত্যাহার না করায় কিলার জাহিদ বোরকা পরে তার বাহিনীর ৭ থেকে ৮ জনকে নিয়ে বাসায় আসেন। এরপর জাহিদ ওই বৃদ্ধকে কোপাতে থাকেন। এসময় পরিবারের লোকজনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে গুলি ছুড়তে ছুড়তে বাসা থেকে বের হয়ে যায় তারা।

এলাকাবাসী জানান, জাহিদ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সম্প্রতি কয়টি হত্যা করার অভিযোগে তিনি কিলার জাহিদ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। এছাড়া সম্প্রতি মাদক স্পটে অভিযান চালানোয় র‌্যাবের ৩ জন সদস্যকে কুপিয়ে আহত করেন। এর আগে র‌্যাবকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে জাহিদ। সেই গুলি লক্ষ্যবস্তু হয়ে এক নারীর শরীরে বিদ্ধ হয়। এছাড়া মাদক ব্যবসার অভিযোগে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করায় পুলিশের এক এসআইকে ছুরিকাঘাত করে ছিনিয়ে নেয় জাহিদ ও তার লোকজন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, জাহিদকে গ্রেফতারের জন্য দীর্ঘদিন যাবত চেষ্টা চলছে। সে বোরকা পড়ে কৌশলে চলাফেরা করে। এজন্য তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।


মোবাশ্বির শ্রাবণ/এফএ