উত্তরণ
প্রশ্ন: চার বছর আগে আমার সন্তানের যখন তিন বছর বয়স, সে সময় আমার স্বামী একটি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তার পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার সঙ্গে তেমন কোনো যোগাযোগ রাখতে চাননি। এই চার বছরে আমি সন্তানকে নিয়ে একা বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছি। এখন শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্নভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। আমার দুই ভাশুর ও একজন ননদ। সবাই মিলে কিছুটা জোর করে আমাদের ওই পরিবারে যুক্ত করতে চাচ্ছেন। তবে আমি সেই বিষয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাঁরা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। আমার ধারণা, জমিজমার কারণে তাঁরা আমার ছেলেকে কোনোভাবে তাঁদের পক্ষে করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আমি এ ধরনের কোনো সমস্যায় পড়তে চাই না। এর বিরুদ্ধে কি আমি কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারি?
সুমাইয়া শারমিন লাকি, যশোর
বাংলাদেশের আইনে, শুধু শ্বশুরবাড়ির লোকজন যোগাযোগ করতে চাইছেন, এ কারণে সাধারণত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। তবে যদি তাঁদের আচরণ আইনভঙ্গের পর্যায়ে যায়, তখন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
আপনার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ; আপনি প্রাপ্তবয়স্ক। আপনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন কি না, সেটি আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আইন আপনাকে এমন সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য করে না। যদি তাঁরা বারবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফোন করেন কিংবা মেসেজ দেন অথবা বাড়িতে এসে বিরক্ত করেন, হুমকি দেন বা মানসিকভাবে হয়রানির চেষ্টা করেন, তাহলে প্রমাণ হিসেবে কল রেকর্ড, মেসেজ, অডিও, ভিডিও, সাক্ষী ইত্যাদি সংরক্ষণ করুন। যদি হুমকি, জোরপূর্বক সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কাজের চেষ্টা করে, তাহলে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে পারেন। প্রয়োজন হলে পরে ফৌজদারি অভিযোগও করা যেতে পারে। যদি আপনার সন্তানের সম্পত্তিগত অধিকার নিয়ে কোনো বিরোধ থাকে কিংবা আপনার আশঙ্কা থাকে যে তাকে ব্যবহার করে সম্পত্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি করা হতে পারে, তাহলে একজন পারিবারিক বা দেওয়ানি আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে আগে থেকে আপনার এবং সন্তানের আইনগত অবস্থান পরিষ্কার করে নেওয়াটাই ভালো।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার, আপনার ছেলে যদি তার বাবার সম্পত্তিতে আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে, তাহলে সেই অধিকার আইন দিয়ে নির্ধারিত হবে। শুধু আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা কিংবা না রাখার কারণে সেই অধিকার সাধারণভাবে নষ্ট হয় না। তবে সম্পত্তিসংক্রান্ত পরিস্থিতি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট নথিপত্র দেখে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।








