রাস্তায় বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তার সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ফেনীর পরশুরামে ননাই বিবি (৫০) নামে এক পরোপকারী গৃহবধূ নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর মোহাম্মদপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ননাই বিবি ওই গ্রামের জর্দার বাড়ির কাশেমের স্ত্রী।
অন্য পথচারীদের বড় কোনো বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়ার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সকালে ননাই বিবি গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় লক্ষ্য করেন, সাম্প্রতিক ঝড়ে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে রাস্তার ওপর অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে ঝুলে রয়েছে। রাস্তাটি দিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ যাতায়াত করে। অন্য কোনো পথচারী বা শিশু যেন দুর্ঘটনার শিকার না হয়, সেই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি নিজ উদ্যোগে তারটি রাস্তার পাশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল থাকায় স্পর্শ করা মাত্রই তিনি মারাত্মকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের লোকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকে উত্তর মোহাম্মদপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, যেকোনো ঝড়-বৃষ্টির পর পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের নিয়মিত লাইন তদারকি (পেট্রোলিং) করার নিয়ম থাকলেও তারা তা ঠিকমতো করেন না। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা ও নিয়মিত তদারকির অভাবেই একটি মূল্যবান প্রাণ অকালে ঝরে গেল। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও পল্লী বিদ্যুতের গাফিলতির বিচার দাবি করেছেন।
পরশুরাম পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সোহেল আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তারটি ছেঁড়া অবস্থায় ঝুলে ছিল ঠিকই, কিন্তু এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে অফিসে আগে থেকে কোনো অভিযোগ বা তথ্য দেওয়া হয়নি। সময়মতো তথ্য না পাওয়ার কারণেই ওই লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এসজেডএইচ








