গাইবান্ধায় টানা ভারী বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে ভোগান্তি বেড়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে আজ বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলায় ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এটি চলতি বছরে জেলায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
টানা বৃষ্টিতে পৌর শহরের মধ্যপাড়া, সান্দারপট্টি, শাপলাপাড়া, স্টেশন রোড, হাসপাতাল রোড, ডিসি অফিস চত্বর ও মুন্সিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে নোংরা পানি সড়কে উঠে আসায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
স্টেশন রোড এলাকার ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, `অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, দখল, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা কারণে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে একটু ভারী বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।'
মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফা বলেন, `সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা তলে যায়, নোংরা পানির মধ্যে দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। এ ছাড়া স্কুল মাঠ উপচে পানি ক্লাস রুমে ঢুকে। এতে করে আমাদের নানা ধরনের সমস্যা হয়।'
শহরের পার্ক রোডের বাসিন্দা শ্রী অমল চন্দ্র বলেন, `বৃষ্টি হলেই এলাকায় হাঁটু পানি জমে যায়। আমাদের চলাফেরায় খুব সমস্যা হয়। জীবনে অনেক জনপ্রতিনিধির শুধু আশ্বাসের বাণী শুনছি। কিন্তু কেউ সমস্যা সমাধান করে নাই।'
গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু বলেন, `সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের ৭০ ভাগ রাস্তা তলিয়ে যায়। পৌরসভার অপরিকল্পিত ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই শহরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হয়।' তিনি এর দ্রুত সমাধান দাবি করেন।
গাইবান্ধা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হানিফ সরদার বলেন, শহরের যেসব রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে, সেগুলো নিচু। আশপাশের রাস্তা উঁচু হওয়ার কারণে সেখানে পানি জমে যায়। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অপরিকল্পিতভাবে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণেও পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।








