গ্যালারিতে কেপ ভার্দের এক সমর্থকের উঁচিয়ে ধরা ব্যানারে লেখা ছিল ‘ছোট দ্বীপদেশ। বড় স্বপ্ন। হারতে নারাজ।’ এ যেন ছয় শব্দে লেখা কোনো মহাকাব্য। হারতে নারাজ কেপ ভার্দেকে শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। কিন্তু কাল ভোরে মেসির ডেরা মায়ামিতে দৈত্য গোলিয়াথের সঙ্গে পুচকে ডেভিডের ১২০ মিনিটের অবিশ্বাস্য লড়াই যারা দেখেছেন, তারা জানেন, এমন হার না-মানা হারে কোনো গ্লানি নেই। আটলান্টিক মহাসাগরের বুক থেকে উঠে আসা পাঁচ লাখ ৩০ হাজার মানুষের ছোট্ট দ্বীপদেশ কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপে জয় ছাড়া বাকি সব কিছুই পেয়েছে। ফুটবলবিশ্বের ভালোবাসা, সম্মান ও মর্যাদা।
গ্রুপপর্বে দুই সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়েকে রুখে দেওয়ার পর শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার হৃৎস্পন্দন প্রায় থামিয়ে দিয়েছিল কেপ ভার্দে। বীরোচিত পারফরম্যান্সে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলে তাদের স্বপ্নযাত্রা থামলেও ভোজিনিয়াদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। কেপ ভার্দের নাম এখন সবার মুখে মুখে। এটাই চেয়েছিল কেপ ভার্দে দল। জহৃভূমির পরিচয় বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর সেটাই বললেন কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা, ‘খেলার চেয়েও বড় বিষয় ছিল বিশ্বের কাছে আমাদের নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরা। টুর্নামেন্টে যতদিন টিকে ছিলাম, সব সময় আমরা ইতিবাচক ফুটবল খেলতে চেয়েছি। বিশ্বের সেরা দলগুলোর মুখোমুখি হতে চেয়েছি। সততার সঙ্গে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছি। ছেলেরা দেখিয়ে দিয়েছে, আমাদের ছোট্ট দেশটি আসলে কিসের প্রতিনিধিত্ব করে। এই দল নিয়ে আমি শুধু গর্বিতই হতে পারি।’








