গাজীপুর সদর উপজেলা গঠনের এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো উপজেলার নিজস্ব সীমানায় গড়ে ওঠেনি উপজেলা পরিষদের কার্যালয় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে সরকারি সেবা নিতে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মহানগর এলাকায় যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ-দুদিক থেকেই ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রায় আট লাখ মানুষ। এ অবস্থার অবসান এবং সদর উপজেলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিতের দাবিতে ২৬ জুন হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

ভাওয়ালগড়, পিরুজালী, মির্জাপুর ও বাড়িয়া এই চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাজীপুর সদর উপজেলা। তবে উপজেলা পরিষদের কার্যালয় এখনো গাজীপুর মহানগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডুয়েট এলাকায় অবস্থিত পুরোনো কার্যালয় থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। একই স্থানে উপজেলা ভূমি কার্যালয়, শিক্ষা অফিস, নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও এখনো কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই। ফলে সরকারি চিকিৎসাসেবা পেতে রোগীদের দূরের হাসপাতালে যেতে হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও মুমূর্ষু রোগীদের ক্ষেত্রে এ দুর্ভোগ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়ে অনেকেই অতিরিক্ত খরচে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের শরণাপন্ন হন। ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের বানিয়ারচালা গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের শুধু নামেই উপজেলা আছে। সরকারি সেবা নিতে অনেক দূরে যেতে হয়। স্বাস্থ্যসেবার জন্য অনেকেই শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। গর্ভবতী বা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে এত দূর নেওয়া সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

একই ইউনিয়নের শিরিরচালা গ্রামের বাসিন্দা আরিফুর হায়দার বলেন, আমাদের উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে কোনো সরকারি দপ্তর নেই। জন্মনিবন্ধন সংশোধনের মতো ছোট একটি কাজের জন্যও ২৫ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়।

মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের এলাকা থেকে উপজেলা কার্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। সরকারি সেবা নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এত বছরেও উপজেলার নিজস্ব সীমানায় কার্যালয় না হওয়া খুবই হতাশাজনক। গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, উপজেলার চারটি ইউনিয়নে কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। উপজেলা কার্যালয়টি অনেক আগে থেকেই বর্তমান স্থানে রয়েছে, যা পরে সিটি করপোরেশনের আওতায় চলে যায়। সেবা নিতে মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা জানি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, উপজেলা কার্যালয় স্থানান্তরের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ-সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, উপজেলার নিজস্ব সীমানায় কার্যালয় ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে।