চিকিৎসার কথা বলে চট্টগ্রাম শহরের একটি আবাসিক হোটেলে এনে স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় নেজাম উদ্দিন (২৯) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলামের আদালত প্রায় ১৪ বছর আগের এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মামলার এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নেজাম উদ্দিন চট্টগ্রামের পটিয়া থানার পূর্ব জিরি এলাকার নুরুল হক মেম্বারের বাড়ির মৃত কবির আহমেদের ছেলে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর জানান, মামলায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামি নেজাম উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন। আদালতের রায়ে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে মো. নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শাহনাজ অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রামে শহরে নিয়ে আসেন স্বামী নেজাম উদ্দিন। এ সময় তাঁরা বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট-সংলগ্ন একটি হোটেলের কক্ষে ওঠেন। পরে ওই কক্ষ থেকেই শাহনাজ বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাহনাজের ভাই নগরের চান্দগাঁও থানায় একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ মো. নেজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।








