পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) নৌবাহিনী। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে অনুকরণমূলক (সিমুলেটেড) ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১২টা ১ মিনিটে এটি উৎক্ষেপণ করা হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল জেএল-৩ (JL-3)। এই দশকের শুরুতে চীনা নৌবাহিনীর টাইপ-০৯৪ শ্রেণির কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিনের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণ আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক করে চীন। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এবং জাপান এ পরীক্ষার সমালোচনা করেছে।
জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি বোহাই সাগর থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং প্রায় ৭ হাজার ৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। পরীক্ষার সময় এটি জাপানের ওয়াকায়ামা প্রিফেকচারের হোনশু দ্বীপের দক্ষিণতম প্রান্ত কেপ শিও-এর দক্ষিণ দিকের জলসীমার ওপর দিয়ে উড়ে যায়।
চীনের ৩০ হাজার টন ওজনের লিয়াওওয়াং-১ সমুদ্র টহল জাহাজ, ১৭ হাজার টনের ইউয়ানওয়াং-৩ মহাকাশ ট্র্যাকিং জাহাজ এবং ২৫ হাজার টনের তৃতীয় প্রজন্মের ইউয়ানওয়াং-৬ ট্র্যাকিং জাহাজ মোতায়েন করে এই উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরীক্ষা শুধু সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সক্ষমতাই নয়, বরং চীনের মহাকাশভিত্তিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার কার্যকারিতাও যাচাইয়ের অংশ ছিল।
এর আগের জেএল-২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার বলে ধারণা করা হলেও জেএল-৩-এর পাল্লা ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার বা এর বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে টাইপ-০৯৪ এবং ভবিষ্যতের টাইপ-০৯৬ শ্রেণির সাবমেরিনগুলো দক্ষিণ চীন সাগর বা চীনের উপকূলীয় জলসীমা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের বিভিন্ন শহরে আঘাত হানতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জেএল-৩ ক্ষেপণাস্ত্রে উন্নত কঠিন জ্বালানিভিত্তিক প্রপালশন প্রযুক্তি, বেশি বহনক্ষমতা এবং উন্নত নির্দেশনা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এটি জেএল-২-এর তুলনায় বেশিসংখ্যক ওয়ারহেড বহন করতে পারে এবং প্রতিটি ওয়ারহেডকে পৃথক লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত করার সক্ষমতা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
এছাড়া চীন পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন উৎপাদন ও আধুনিকায়নেও অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটির তিনটি শিপইয়ার্ডে পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণ চলছে বলে গত জুনের শুরুতে নিশ্চিত করা হয়।
পাশাপাশি টাইপ-০৯৬ শ্রেণির ভবিষ্যৎ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনে উন্নত শব্দ-নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি, ম্যাগনেটিক ড্রাইভ এবং রিম-ড্রিভেন প্রপেলার ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব সাবমেরিন ভবিষ্যতে জেএল-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেএম








