প্রশান্ত মহাসাগরে সোমবার দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে চীন। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও এনবিসি নিউজের।
চীনের এ পদক্ষেপের পর যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা পুরো উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, এমন এক সময় যখন যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করছে, তখন চীন দ্রুত ও অস্বচ্ছভাবে পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তিনি বেইজিংকে অর্থবহ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় অংশ নেওয়ারও আহ্বান জানান।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং বলেন, চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত স্বচ্ছতার অভাব পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের বিষয়। জাপানের সংবাদ সংস্থা কিয়োডো জানায়-সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ জাপানের অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছাকাছি পড়তে পারে, এমন সতর্কবার্তা বেইজিং আগে থেকেই টোকিওকে দিয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পড়ে। তবুও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাপান সরকার। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেন, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহার করা অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি জানান, এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
এদিকে এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লায়েল মরিস বলেন, এ পরীক্ষা চীনের সামরিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর মাধ্যমে দেশটি দেখিয়েছে যে, নিজস্ব উপকূলীয় জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান করেই দূরপাল্লায় কৌশলগত হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে। অন্যদিকে চীনের এ পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো চীনের সার্বভৌম অধিকার এবং বেইজিং বিশ্বের কোনো দেশের জন্য হুমকি নয়। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এটি দেশটির বার্ষিক নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ। নিরাপত্তার স্বার্থে ক্ষেপণাস্ত্রটির মডেল কিংবা পতনের সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরীক্ষাটি পরিচালিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বেইজিং। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়নি বলেও দাবি করেছে চীন। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ এই পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার ক্ষেত্রে চীনের সক্ষমতা আরও বেড়েছে, এমন ইঙ্গিত দেয়। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে, তবুও ওয়াশিংটন এখনো চীনকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে বিবেচনা করে। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে একটি পরমাণুচালিত সাবমেরিন থেকে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করে চীন। এতে একটি ডামি ওয়্যারহেড ব্যবহার করা হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক জলসীমায় আঘাত হানে। এর আগে, ২০২৪ সালে ফরাসি পলিনেশিয়ার কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছিল চীন। চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সেটিই ছিল প্রথম উৎক্ষেপণ।








