গোবিপ্রবি বন্ধুসভার আয়োজনে আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে এক প্রাণবন্ত ও চিন্তাসমৃদ্ধ পাঠচক্র। সমকালীন পাঠ, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, সাহিত্যচর্চা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মুক্ত আলোচনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আসর।

পাঠচক্রের সাহিত্য পর্বে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেনের মনস্তাত্ত্বিক নভেলা ‘হরণ’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বন্ধু ঐকান্তিক সোমাদ্দার। তিনি বলেন, মাত্র ৪৮ পৃষ্ঠার এই সংক্ষিপ্ত নভেলা আয়তনে ছোট হলেও ভাবনায় অত্যন্ত গভীর ও বহুমাত্রিক। এতে মানুষের অন্তর্জগতের একাকিত্ব, অস্তিত্বের সংকট, মানসিক বিচ্ছিন্নতা, আত্মপরিচয়ের সংকট এবং আধুনিক মানুষের নিঃসঙ্গতার অনুভূতিকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম শিল্পনৈপুণ্যে তুলে ধরা হয়েছে।

আলোচনায় পারভেজ হোসেনের স্বতন্ত্র, সংযত ও কাব্যিক গদ্যরীতির ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রচলিত কাহিনিনির্ভরতার বাইরে গিয়ে ‘হরণ’ সমকালীন জীবনবোধ, মনস্তত্ত্ব ও মানবিক সংকটের এক অনন্য সাহিত্যকর্ম। এটি পাঠককে শুধু একটি গল্পের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখে না; বরং আত্মসমালোচনা, আত্ম–অন্বেষণ এবং জীবনকে নতুন দৃষ্টিতে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে চিন্তাশীল পাঠকের কাছে ‘হরণ’ নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য হয়ে উঠেছে।

সমকালীন সাহিত্য, পাঠাভ্যাস এবং তরুণদের বই পড়ার আগ্রহ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, নিয়মিত পাঠচর্চা একজন মানুষকে শুধু জ্ঞানী করে তোলে না; বরং তার চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণক্ষমতা ও মানবিক বোধকেও সমৃদ্ধ করে। এমন পাঠচক্র শিক্ষার্থীদের মুক্তভাবে মতপ্রকাশ, যুক্তি উপস্থাপন এবং সাহিত্যকে গভীরভাবে অনুধাবনের সুযোগ সৃষ্টি করে।

পাঠচক্রে সেরা আলোচকদের বই উপহার দেওয়া হয়

এরপর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রজতজয়ন্তীকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; এটি গবেষণা, উদ্ভাবন, মানবিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র। গত ২৫ বছরের অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাও আলোচনায় উঠে আসে। গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, আধুনিক গবেষণাগার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে বলেন, আগামী ২৫ বছরে গোবিপ্রবি যেন দেশ-বিদেশে একটি উৎকর্ষ, গবেষণানির্ভর ও উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

আলোচনার শেষে সক্রিয় ও মানসম্মত অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনজন সেরা আলোচককে বই উপহার দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন বন্ধু গালিবা সোয়ারা, অর্পিতা ও অর্ণব। তাঁদের হাতে ‘মার্কিন মুলুকে’, ‘বিজ্ঞান মজার প্রজেক্ট’ এবং ‘উপদেশের কবিতা’ বই তুলে দেওয়া হয়। পাঠচক্রের আসরে গোবিপ্রবি বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, গোবিপ্রবি বন্ধুসভা