ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসচাপায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন। এর মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুর্ঘটনাকবলিত একটি যাত্রীবাহী বাসসহ অন্তত ৪টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে ও একাধিক যানবাহনে ভাঙচুর চালিয়েছে।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও থানা-পুলিশ গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে।
হতাহতরা সোয়াদি গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাবলু মাতুব্বরের ছেলে আরিফ মাতুব্বর (২৫), আবু শেখের ছেলে ওবায়দুল শেখ (৪০), লিটন মিয়ার ছেলে জয়নাল মিয়া (২৪), তুহিন শেখের ছেলে নুরুন্নবী শেখ (১২) ও কুদ্দুস শেখের ছেলে হাফিজুর শেখ (৫০)।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডিমবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের চাকা ফেটে মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ডিম ও মালামাল সরিয়ে নিতে এবং ট্রাকটি উদ্ধারে সহযোগিতা করছিলেন। এ সময় ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছিল। তখনই খুলনাগামী নড়াইল এক্সপ্রেস নামে একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে উল্টে থাকা ট্রাক এবং উদ্ধারকাজে নিয়োজিত লোকজনকে পেছন থেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যায় এবং অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে আরও একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নড়াইল এক্সপ্রেস নামের বাসটিসহ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জোবায়ের নাদিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ৭ জনকে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালুদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া হাসপাতালে একজন মারা যায়। ঘটনাস্থলে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করায় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।








