কুমিল্লায় মাদক চোরাচালান নির্বিঘ্ন করতে তিন শতাধিক সড়ক বাতি খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। শহরতলীর টিক্কারচর থেকে ভারত সীমান্তের গোলাবাড়ী পর্যন্ত সড়কের এসব বাতি গায়েব করা হয়েছে। ঘটনাটি মাস পেরিয়ে গেলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনো তদন্ত হয়নি। অভিযুক্তদের স্থানীয়রা চিনলেও ভয়ে মুখ খুলছেন না। এতে রাতে ওই সড়কে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরতলীর টিক্কারচর থেকে সীমান্তের গোলাবাড়ী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কের চিত্র দিনে স্বাভাবিক মনে হলেও রাত নেমে আসে ভিন্নরূপে। বিদঘুটে অন্ধকারে ওই সড়কে সাধারণের উপস্থিতি একেবারে সীমিত হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে টিক্কাচার-গোলাবাড়ী-গোমতী বেড়িবাঁধ সড়ক হয়ে ভারত থেকে মাদক ও চোরাই পণ্য প্রবেশ করে। মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি, অটোরিকশা, পিকআপে এসব পণ্য কুমিল্লা নগরী এবং রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার হয়। কিছুদিন আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই সড়কের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কিছু মাদক ও চোরাই পণ্যের চালান আটক করে। এরপর মাদক কারবারিরা সড়কের তিন শতাধিক বাতি খুলে নিয়ে গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সড়কের লাইটের খুঁটিগুলো দাঁড়িয়ে আছে। পোস্টের মাথায় সোলার প্যানেলটি থাকলেও বেশির ভাগ বাতিসহ সামনের অংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও বাতির খুঁটিসহ তুলে নেওয়া হয়েছে।
আদর্শ সদরের ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পালপাড়া থেকে গোলাবাড়ী গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের ৬ কিলোমিটার অংশে ৫ শতাধিক সোলার লাইট স্থাপন করা হয়। পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। এসব সড়কবাতি বসানোয় সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ রাতে নিরাপদে চলাচলের সুবিধা পেতেন। পাঁচথুবী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী তানভীর আহমেদ রাহুল বলেন, ‘মাদক চোরাচালান নির্বিঘ্ন করতে এসব সড়ক বাতি উধাও করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে তাদের শনাক্ত করতে পারে। ঘটনার মাস পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।’
গোলাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, রাতে বাতিগুলো জ্বালানো থাকলে সোর্সের মাধ্যমে পুলিশ মাদক চোরাচালানের তথ্য পেয়ে যায়। তাদের ব্যবহৃত যানবাহনের নাম্বার এবং ফুটেজ ছবি পেয়ে যায়। এ কারণে মাদক কারবারিদের লোকজন বাতিগুলো খুলে নিয়ে গেছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, টিক্কারচর গোলাবাড়ী সড়কের বাতিগুলো চুরির বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। কুমিল্লা আদর্শ সদরের ইউএনও ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।








