বিশ্বকাপ এলেই ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত। সমর্থকদের ট্রল, মিম, ঠাট্টা-তামাশা এবং ভাইরাল পোস্টে ভরে যায় ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব ও টিকটক। এবার সেই ট্রলই জায়গা করে নিয়েছে গুগলের সার্চ ফলাফলেও।

সম্প্রতি অনেক ব্যবহারকারী লক্ষ্য করেছেন, গুগলে ‘চোরের দলের ম্যাচ কবে’ লিখে সার্চ করলে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের তথ্য দেখা যাচ্ছে। আবার ‘৭ আপ খাওয়া দল’ লিখে সার্চ করলে অনেকের কাছে ব্রাজিল বা ব্রাজিল-জার্মানি ম্যাচের তথ্য উঠে আসছে। প্রশ্ন হলো, গুগল কি সত্যিই কোনো দলকে এ ধরনের নাম দিয়েছে? এর উত্তর হলো-না।

গুগল কীভাবে সম্পর্ক তৈরি করে?

গুগল কেবল শব্দ মিলিয়ে ফলাফল দেখায় না। এর সার্চ অ্যালগরিদম একটি শব্দ বা বাক্যাংশের সঙ্গে ইন্টারনেটে থাকা অসংখ্য ওয়েবপেজ, সংবাদ, ভিডিও, ছবি এবং মানুষের সার্চ আচরণের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে।

আরও পড়ুন

গুগলে ‘চোরের দলের ফুটবল খেলা কবে’ সার্চ করলেই যা দেখাচ্ছে

ধরুন, দীর্ঘদিন ধরে লাখ লাখ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাজিলকে ‘৭ আপ’ বলে উল্লেখ করছে। একই সঙ্গে তারা সেই শব্দ লিখে সার্চ করছে, ভিডিও দেখছে, খবর পড়ছে বা পোস্ট শেয়ার করছে। তখন গুগলের অ্যালগরিদম বুঝতে শুরু করে, ‘৭ আপ’ শব্দটি ব্যবহারকারীরা প্রায়ই ব্রাজিলের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রসঙ্গে ব্যবহার করছেন।

একই ঘটনা ঘটতে পারে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে প্রচলিত কোনো ট্রল শব্দের ক্ষেত্রেও। ফলে ওই শব্দ লিখে সার্চ করলে সংশ্লিষ্ট ফুটবল দল বা ম্যাচের তথ্য সামনে চলে আসতে পারে।

‘৭ আপ’ ট্রলের জন্ম কোথায়?

২০১৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিল নিজেদের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের ব্যবধানে হেরে যায়। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় এই পরাজয়ের পর থেকেই প্রতিপক্ষ সমর্থকেরা ব্রাজিলকে ব্যঙ্গ করে ‘৭ আপ’ বলতে শুরু করেন। কোমল পানীয় সেভেন আপের নামের সঙ্গে ‘৭’ সংখ্যার মিল থেকেই এই ট্রলের জনপ্রিয়তা তৈরি হয়।

বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে এই ট্রল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বকাপ এলেই আবার নতুন করে ‘৭-১’ ও ‘৭ আপ’ নিয়ে অসংখ্য মিম ও ভিডিও ভাইরাল হয়।

‘চোরের দল’ বিতর্কের পেছনে কী?

আর্জেন্টিনাকে নিয়ে প্রচলিত কিছু ট্রলের শিকড় ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে। সে সময় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। সেই স্মৃতি ঘিরে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের একটি অংশ আর্জেন্টিনাকে ব্যঙ্গ করে বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব শব্দের ব্যাপক ব্যবহারও সার্চ ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন

গুগলে ‘৭ আপ খাওয়া দল’ সার্চ করলেই যা দেখবেন

গুগল কি নিজে এসব নাম দেয়?

একেবারেই না। গুগল কোনো ফুটবল দলকে ‘চোরের দল’, ‘৭ আপ’ বা এ ধরনের নামে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে না। সার্চ ইঞ্জিনের কাজ হলো ইন্টারনেটে থাকা তথ্য ও ব্যবহারকারীর অনুসন্ধানের ধরন বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ফলাফল দেখানো।

তাই কোনো শব্দ যদি দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের সঙ্গে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে গুগল সেই সম্পর্ককে শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট তথ্য দেখাতে পারে।

সবার কাছে কি একই ফলাফল আসে?

না। গুগলের সার্চ ফলাফল অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে রয়েছে-ব্যবহারকারীর অবস্থান, ভাষা, সার্চ হিস্ট্রি, চলমান ট্রেন্ড, ব্যবহৃত ডিভাইস, গুগলের ব্যক্তিগতকরণ। ফলে একজন যে ফলাফল দেখছেন, অন্যজনের ক্ষেত্রে তা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

বিশ্বকাপে কেন এমন ট্রেন্ড বাড়ে?

বিশ্বকাপের সময় কোটি কোটি মানুষ একই বিষয় নিয়ে সার্চ করেন, পোস্ট করেন এবং ভিডিও দেখেন। ফলে নির্দিষ্ট শব্দ বা ট্রল খুব দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এই বিপুল পরিমাণ ব্যবহারকারীর আচরণ গুগলের অ্যালগরিদমকে নতুন সম্পর্ক শনাক্ত করতে সাহায্য করে। তাই বিশ্বকাপ চলাকালে এমন অস্বাভাবিক সার্চ ট্রেন্ড বেশি দেখা যায়।

কেএসকে