মানবতাবিরোধী অপরাধসহ নানা অপকর্মে বারবার আওয়ামী লীগের নাম আসায় দলটির বিচারের জন্য তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অপরাধ প্রমাণ হলে দল নিষিদ্ধ এবং তাদের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান আছে।’
তদন্তে আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলের বিষয়ে প্রতিবেদন আসলে তাদের বিচারের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আমিনুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দলের বিচার এবং দল নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া, সে আইনগুলো আওয়ামী লীগই প্রণয়ন করেছে। সংবিধান সংযোজন করেছে। আওয়ামী লীগ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসন কায়েমের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তখন গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছিল। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করাসহ সবকিছুতেই আওয়ামী লীগ দোষর হিসেবে কাজ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে লগি–বইঠা ব্যবহার করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তখন দল হিসেবে এই সংগঠনটি নির্বিচারে মানুষের জানমাল হরণ করেছে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, একইভাবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে ফ্যাসিজম কায়েম করেছিল। সেই ফ্যাসিজমের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সবকিছু আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়েছিল।
আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে গিয়ে বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। গত ১৬ বছর মানুষের কোনো স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল না। যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে সেগুলোর কোনোটি রাতে, কোনোটি একদলীয়, কোনোটি আমি–ডামির নির্বাচন ছিল। তারা সরকারে থেকে নানা বাহিনী দিয়ে মানুষের জান–মালের ক্ষতি করেছে। জুলাই আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্রজনতার ওপর বিভিন্ন বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মূল দল জনগণের জানমালের ওপর আক্রমণ করে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নানা অপরাধ সংঘটন করেছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও সন্ত্রাস বিরোধী আইন আওয়ামী লীগ প্রণয়ন করেছিল। এই দুটি আইনেই তাদের বিচারের ব্যবস্থা আছে। ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত অভিযোগ ছিল। তা তদন্ত সংস্থায় পাঠানোর পর তদন্ত চলছে। তদন্তের পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তখন প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে।
আওয়ামী লীগের শরিকদলগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা থাকলে নিশ্চয়ই সেটা রিপোর্টে আসবে। তখন তাদেরও বিচার করা সম্ভব হবে।
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন, ফিরলে তিনি আপিল করতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রায় ঘোষণার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের বিধান আছে। ইতিমধ্যে তার সে সময়, সেটি পার হয়ে গেছে। এখন তিনি যদি আসেন এবং যদি কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিতে চান, তখনকার অবস্থা কি হয় সেটা তখনই বোঝা যাবে। তবে আমরা চাই তিনি দেশে আসুন। তাঁর (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে যে দণ্ড আছে, তিনি সেটা চ্যালেঞ্জ করুক।’








