বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই যেন দর্শকদের তুমুল আগ্রহ। লিওনেল স্কালোনির দল যে স্টেডিয়ামেই খেলে, গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ম্যাচ ঘিরে টিকিটের চাহিদা বেড়ে গেছে বহুগুণে। তাতে করে অনেক দর্শক কাছ থেকে লিওনেল মেসি-রদ্রিগো দি পলদের খেলা দেখতে পারবেন না। তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এই ব্যাপারে কাজ করছে।
‘জে’ গ্রুপ থেকে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ বত্রিশে ওঠা আর্জেন্টিনা এবার খেলবে নকআউট পর্বে। শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে শুরু হবে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচ। দর্শকদের তুমুল আগ্রহের কারণে এখন টিকিট নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি দরকার পড়ছে।
টিকিটের বিপুল চাহিদা থাকায় ফিফা ও এএফএ কাজ করছে বলে জানিয়েছে ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ক্লদিও তাপিয়া। আর্জেন্টিনার স্থানীয় রেডিও ভোর্তেরিক্সকে তিনি বলেন, ‘যত বেশি সম্ভব মানুষ যেন ম্যাচটি (আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে) উপভোগ করার সুযোগ পান, সে জন্য আমরা কাজ করছি। এটি এমন একটি ম্যাচ, যার টিকিটের চাহিদা এত বেশি হবে—এটা কেউই কল্পনা করেনি। কোনো অবশিষ্ট টিকিট আছে কি না, সে বিষয়ে আমরা জানতে চাইছি। তাতে করে দর্শকেরা টিকিটগুলো কিনতে পারেন এবং মাঠে বসে খেলা উপভোগ করতে পারেন।’
২০২৩ সাল থেকে ইন্টার মায়ামি হয়ে গেছে মেসির ‘দ্বিতীয় পরিবার’। মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামকে তাঁর ঘরের মাঠ বলা যেতেই পারে। ইন্টার মায়ামির ম্যাচের সময়ই ‘মেসি ১০’ নম্বর জার্সি পরে অনেক দর্শককে গ্যালারিতে দেখা যায়। এবার ম্যাচটা যখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব, তখন তো কথাই নেই। মেসির ঘরের মাঠের দর্শক ধারণক্ষমতা ৬৫ হাজার। তবে তাপিয়ার ধারণা, আর্জেন্টিনার ম্যাচ নিয়ে তুমুল উন্মাদনার কারণে ৫০ হাজার মানুষ টিকিট ছাড়াই খেলা দেখতে এসেছেন।
দর্শকেরা সবাই যে একসঙ্গে গ্যালারিতে খেলা উপভোগ করতে পারবেন না, সেটা জানা আছে তাপিয়ারও। তবু তিনি নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ভোর্তেরিক্স রেডিওকে এএফএ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছি। আগে থেকে কেনা কিন্তু ব্যবহার করা হবে না—এমন টিকিটগুলো পুনরায় বিক্রির জন্য ছাড়া হতে পারে। এতে আরও বেশি সংখ্যক দর্শক ম্যাচটি দেখতে পারবেন। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ টিকিট ছাড়াই এখানে এসেছেন। তবে জাতীয় দলের প্রতি মানুষের এমন ভালোবাসাই এর কারণ। তাই যত বেশি সম্ভব সমর্থককে সাহায্য করার চেষ্টা করছি। যদিও সবার পক্ষে স্টেডিয়ামে খেলা দেখা সম্ভব না।’
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে ৮ গোল করেছে আর্জেন্টিনা। বিপরীতে হজম করেছে ১ গোল। আলবিসেলেস্তেদের ৮ গোলের ছয়টিই করেছেন মেসি। যার মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাঁর হ্যাটট্রিক। তিনি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে ৬ গোল করে এবারের বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা।
আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা তো বটেই, বিপক্ষ দলের সমর্থকেরাও মেসিকে দেখতে গ্যালারিতে ভিড় করেন। আর্জেন্টিনার ম্যাচ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ একটু বেশিই থাকে।








