ব্যর্থতার চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে উরুগুয়ে ফুটবল দল। আর্জেন্টাইন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা তিন বছর দায়িত্বে থেকেও উরুগুয়েকে কোনো শিরোপা এনে দিতে পারেননি।২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মাঝপথেই তাঁর চাকরি শেষ হয়েছে।
বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া উরুগুয়ে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই। তাতে করে লাতিন আমেরিকার দলটির সঙ্গে সম্পর্কও শেষ হয়ে গেল বিয়েলসার। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিদায়বেলায় একরাশ হতাশা প্রকাশ করলেন আর্জেন্টাইন এই কোচ।
উরুগুয়ের সঙ্গে বিয়েলসার চুক্তিটা ছিল তিন বছরের। দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে তাঁরও উরুগুয়ে থেকে বিদায় হয়ে গেল। কোনো ম্যাচ না জিতে কেবল ২ ড্রয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্বেই শেষ লাতিন আমেরিকার দলটির পথচলা। গতকাল মন্টেভিডিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিয়েলসা বলেন, ‘যা ঘটেছে, সেটার পুরোপুরি দায়ভার আমার। এটা একদম স্পষ্ট। যে অবস্থানে থেকে আমরা টুর্নামেন্ট শেষ করেছি, কোনো অজুহাতই এখানে কাজে দেবে না।’
‘এইচ’ গ্রুপে থাকা উরুগুয়ের গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষ ছিল স্পেন, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব। সৌদির বিপক্ষে হারতে হারতে বেঁচে যাওয়া ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র করে টুর্নামেন্টের পথচলা শুরু হয় উরুগুয়ের। লাতিন আমেরিকার দলটি এরপর কেপ ভার্দের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে। শেষ বত্রিশে উঠতে জয়ের যখন কোনো বিকল্প ছিল না, সে সময়ে স্পেনের কাছে হেরে বসে উরুগুয়ে। ১-০ গোলে হারের পর ‘এইচ’ গ্রুপে তিনে থেকে শেষ করলেও মেলেনি কোনো সমীকরণ।
মাঠের পারফরম্যান্স তো যাচ্ছে তাই ছিলই। এমনকি বিশ্বকাপের মাঝে ফেদেরিকো ভালভার্দের সঙ্গে বিয়েলসার দ্বন্দ্বের খবরও ছড়িয়েছিল। এ ব্যাপারে অবশ্য কিছু বলেননি উরুগুয়ের সদ্য বিদায়ী কোচ। তবে দল ঠিকমতো পরিচালনা করতে না পারার দায় স্বীকার করেছেন বিয়েলসা। গতকাল সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারিনি। আমি, আমার সহকর্মীরা এবং খেলোয়াড়েরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না।’
২০২৩ সালে তিন বছরের চুক্তিতে উরুগুয়ের কোচ হয়েছিলেন বিয়েলসা। এই সময়ে তাঁর অধীনে উরুগুয়ে জেতে ১৬ ম্যাচ। ৮ ম্যাচ হেরেছে ও ড্র করেছে ১২ ম্যাচ। তবে পরিসংখ্যান যে সব সময় পুরোটা বলে না। তাঁর অধীনে উরুগুয়ের সফলতা কেবল ২০২৪ কোপা আমেরিকায় রানার্সআপ হওয়া।
ভক্ত-সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিয়েলসা বলেন, ‘আমার মতে সমর্থকদের হতাশ করাটাই সবচেয়ে বড় হতাশার কারণ। মৌসুমের শেষে আমাদের অবস্থান এমন হবে, এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। এই পতন মেনে নেওয়ার মতো না। যে সমর্থকদের জন্য আমরা সবকিছু করি, তাদের জন্য কিছু করতে পারলাম না। সব কিছু অত্যন্ত বাজেভাবে শেষ হয়েছে।’
১৯৩০ ও ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কোনোবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি উরুগুয়ে। দীর্ঘ ৭৬ বছরে তারা ফাইনালেই উঠতে পারেনি। ২০১০ সালে উরুগুয়ে সবশেষ সেমিফাইনালে উঠেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে তারা হয়েছিল চতুর্থ। এবার ২০২২ সালের মতো গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিল লাতিন আমেরিকার দলটি। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে উরুগুয়ের সঙ্গে বিয়েলসার সম্পর্ক শেষ হয়ে গেল।








