ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডিআর কঙ্গোর এই ম্যাচটি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও বাস্তবতা বলছে, এই আফ্রিকান দলটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
অনেকেই মনে করেন, ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারতো ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার কোনো পরাশক্তি। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর খেলার ধরনই তাদেরকে ইংল্যান্ডের জন্য একটি অস্বস্তিকর প্রতিপক্ষ করে তুলেছে।
এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তারা প্রমাণ করেছে যে, বড় দলের বিপক্ষেও সংগঠিত থেকে খেলতে পারে এবং প্রতিপক্ষকে খুব বেশি সুযোগ দেয় না। কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রের অধীনে দলটি রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করেছে, যা তাদেরকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
ডিআর কঙ্গোর আরেকটি বড় অস্ত্র দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। তারা সাধারণত বলের দখল প্রতিপক্ষকে ছেড়ে দেয়, কিন্তু বল ফিরে পেলেই খুব অল্প সময়ে আক্রমণে উঠে আসে। এই কৌশল ইংল্যান্ডের জন্য বড় হুমকি হতে পারে, কারণ ইংল্যান্ড প্রায়ই রক্ষণভাগ অনেক ওপরে তুলে খেলে।
ইংল্যান্ডের অন্যতম দুর্বলতা হলো, তারা এমন দলের বিপক্ষে ভোগে যারা ঘন রক্ষণ গড়ে তোলে এবং সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। ডিআর কঙ্গো ঠিক সেই ধরনের দল। তারা ধৈর্য ধরে ম্যাচ খেলতে পারে এবং একটি সুযোগ থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে।
দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ও ইংল্যান্ডের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারেন। আক্রমণে ইয়োয়ান উইসার গতি ও গোল করার ক্ষমতা, মাঝমাঠে নোয়া সাদিকির পরিশ্রম এবং পুরো দলের সমন্বিত রক্ষণ ইংল্যান্ডকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।
ডিআর কঙ্গোর আরেকটি বড় সুবিধা হলো, তাদের ওপর কোনো চাপ নেই। বিশ্বকাপে তারা ইতোমধ্যেই প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করেছে। ফলে তারা নির্ভার হয়ে খেলতে পারবে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ওপর থাকবে জয়ের বিশাল চাপ, যা নকআউট ম্যাচে কখনও কখনও দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ফুটবলে বড় দল সব সময় জেতে না। বিশেষ করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটি ভুল, একটি পাল্টা আক্রমণ কিংবা একটি স্থির বলের পরিস্থিতিই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আর সেই কারণেই ডিআর কঙ্গোকে ইংল্যান্ডের জন্য আদর্শ ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে দেখা যায়।
টিটিটি/আইএন








