বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়ে দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ের ৪৯তম মিনিটে লাল কার্ড দেখেন। কারণ, স্ট্রাইকার সান্তি হিমেনেজের সঙ্গে তর্কের সময় তিনি কথা বলার সময় নিজের মুখ ঢেকে রেখেছিলেন।

আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মেক্সিকো ২-০ গোলে জয় পেয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে। সেখানে তারা ইংল্যান্ড ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে। অতিরিক্ত সময়ের ৪৭তম মিনিটে হিনকাপিয়ে ও হিমেনেজের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে ইকুয়েডরের এই ডিফেন্ডার প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের মুখ ঢেকে ফেলেন।

মেক্সিকোর খেলোয়াড়টি রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর ভিএআর স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচকে ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনা করতে বলে। ভিডিও দেখে তিনি হিনকাপিয়েকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে তথাকথিত ‘ভিনি জুনিয়র আইন’ অনুযায়ী দ্বিতীয় বহিষ্কার। এর আগে প্রথম রাউন্ডে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে তর্কের সময় মুখ ঢাকার কারণে প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরোনও লাল কার্ড দেখেছিলেন।

সম্ভাব্য আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক মন্তব্য মুখ ঢেকে বলার প্রবণতা রোধে ফিফা এই নতুন নিয়ম চালু করেছে। এই নিয়মের অনুপ্রেরণা আসে এমন এক ঘটনার পর, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অভিযোগ করেন যে বেনফিকার খেলোয়াড় পেরেস্তিয়ানি তাকে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছিলেন।

সেই ঘটনায় আর্জেন্টাইন ফুটবলার পেরেস্তিয়ানি নিজের মুখ ঢেকে কথা বলেছিলেন এবং বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে পরে উয়েফা তাকে ছয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে। নিয়মটি অনুমোদনের সময় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘যদি কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে এমন কিছু বলে যার বর্ণবাদী প্রভাব রয়েছে, তাহলে তাকে অবশ্যই মাঠ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। অবশ্যই। আমাদের ধরে নিতে হবে যে সে এমন কিছু বলেছে যা বলা উচিত ছিল না। নইলে তার মুখ ঢাকার প্রয়োজন হতো না।’

আরআর/আইএন