বিশ্বকাপের অন্যতম চমক জাগানো দল গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিপক্ষে বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য নকআউট পর্বের ম্যাচের আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুখেল। টুখেল স্বীকার করেছেন যে এই ম্যাচে তার দলই ফেবারিট। তবে তিনি বলেছেন, এমন পরিস্থিতি দলের ওপর বাড়তি চাপও তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমি ঘানা ও পানামার বিপক্ষে ম্যাচগুলোর মতোই একটি ম্যাচ প্রত্যাশা করছি। তারা খুবই শারীরিক শক্তিনির্ভর দল। আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, আর সেটাই তাদের জন্য কার্যকর। আমাদের এসব মেনে নিতে হবে এবং এগুলো কীভাবে আমাদের খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে, যাতে আমরা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি।’
টুখেলের মতে, এই চাপই দলের জন্য বাড়তি প্রেরণা। তিনি বলেন, ‘আমি এমন পরিস্থিতি উপভোগ করি। এখানে থাকা আমাদের জন্য একটি বিশেষ সৌভাগ্য। আমাদের মেনে নিতে হবে যে আমরা ফেবারিট এবং সবাই আমাদের পরের রাউন্ডে ওঠার প্রত্যাশা করছে। বাস্তবতা এটাই। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। এখন শুধু নিজেদের সেরাটা মাঠে দেখাতে হবে।’
ডিআর কঙ্গো সম্পর্কে নিজের মূল্যায়নও তুলে ধরেন ইংল্যান্ড কোচ। গ্রুপ ‘কে’-তে পর্তুগালের সঙ্গে ড্র, কলম্বিয়ার কাছে হার এবং উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে তৃতীয় স্থান অর্জন করে নকআউট পর্বে উঠেছে আফ্রিকার দলটি।
টুখেল বলেন, ‘এটি কঠিন একটি ম্যাচ হবে। তারা খুব ভালোভাবে প্রশিক্ষিত একটি দল। সম্ভবত ৫-৩-২ ফরমেশনে খেলবে। রক্ষণে তারা খুবই সংগঠিত থাকে এবং কখনও উঁচুতে প্রেসিং করে, আবার কখনও নিচু ব্লকে রক্ষণ সামলায়। পাল্টা আক্রমণে তারা খুবই বিপজ্জনক। এছাড়া লম্বা পাস খেলতে তারা ভয় পায় না এবং দ্বিতীয় বল জেতার চেষ্টা করে।’
টুখেল আরও বলেন, টুর্নামেন্টের শুরুতে হ্যারি কেইন (তিন গোল) ও জুড বেলিংহামের (দুই গোল) আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকাকে তিনি কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। তবে অন্য খেলোয়াড়েরাও প্রয়োজনে পার্থক্য গড়ে দিতে প্রস্তুত বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, ‘আদর্শভাবে সেটাই ভালো হতো, তবে ওরা দুজন যদি এভাবেই দলের মূল ভরসা হয়ে থাকে, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। আপনি সবসময় আপনার সেরা খেলোয়াড়দের ওপরই আস্থা রাখেন। আমাদের দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে। অন্যরাও সামনে এসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা সবাইকে প্রয়োজন হবে।’
আটলান্টার এই ম্যাচের বিজয়ী দল প্রথমে মেক্সিকো ও ইকুয়েডরের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে। সেই বাধা পেরোতে পারলে সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে ব্রাজিল।
আরআর/আইএন








