দশমিনায় কর্মস্থলে থাকছেন না সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ‘খেয়ালখুশিমতো’ অফিসে আসছেন ও যাচ্ছেন তারা। অনেক সরকারি কর্মকর্তা বাড়ি পাশের উপজেলা দশমিনায় পোস্টিং নিয়ে করছেন ‘খামখেয়ালি’। অফিস শুরুর নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দেরিতে আসা ও কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার অনেক আগেই কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগ রয়েছে কোনো কোনো সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ফলে ভোগান্তি বাড়ছে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে। এতে সরকারি সেবা বা সরকারি দপ্তর নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, এভাবে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্বে অবহেলা ও সরকারি সেবায় ভোগান্তি বাড়লে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে। অন্যদিকে, অনেক সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দিবস ও উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সভা-সেমিনারে উপস্থিত থাকছেন না। কেউ কেউ সপ্তাহের প্রতি রোববার পটুয়াখালী জেলায় মিটিংয়ের অজুহাতে পূর্ণ কর্মদিবস বাড়িতে বসে কাটান বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার মুহ. নেছার উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদ হাওলাদারসহ (ভারপ্রাপ্ত) বেশ কয়েকটি অতিগুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের মূল দায়িত্বের কর্মকর্তা কর্মস্থলে থাকছেন না। কর্মস্থলে না থাকার তালিকায় আছেন সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরাও। ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জেলা শহর বা পছন্দের অন্য উপজেলায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন কিংবা কাছাকাছি যাদের বাড়ি তারা বাড়ি থেকে অফিস করছেন। ফলে, অফিস শুরুর নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দেরিতে আসা ও কর্ম ঘণ্টা শেষ হওয়ার অনেক আগেই তারা কর্মস্থল ত্যাগ করছেন। অথচ, প্রত্যেকে সরকার থেকে বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন। অন্যদিকে, উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মকবুল হোসেন, নাজির মাহমুদুল হাসান, নামজারি সহকারী তাইজুল ইসলাম কর্মস্থলে থাকছেন না বলে তাদের দপ্তরের একজন যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া অনেক মূল দায়িত্বের কর্মকর্তা দশমিনায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় তারা অন্য কর্মস্থলেই বাসা-বাড়ি নিয়ে থাকছেন। ফলে অনেকটা ভেঙে পড়েছেন সেবা ব্যবস্থা। পটুয়াখালী জেলা শহরে বাসা নিয়ে থাকেন জানিয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদ হাওলাদার (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, আমি সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে অফিসে পৌঁছে যাই। অনেক সময় ৪টার পরও অফিস ত্যাগ করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা হৃদয় বলেন, যারা কর্মস্থলে বা বিভিন্ন সভায় উপস্থিত থাকছেন না তাদের মৌখিকভাবে বলেছি। বিষয়টি জেলার সভাও বলেছি। এখন আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।








