দৌলতখানে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাদক কারবারিরা। উপজেলার অসংখ্য স্থানে চলছে গাঁজা-ইয়াবার রমরমা কারবার। কোনো আইনি পদক্ষেপেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না তাদের। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেফতারের পর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে মাদক কারবারিরা। এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক নির্মূলে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। পুলিশ মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করলেও তদবিরের মাধ্যমে তাদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নিচ্ছেন রাজনৈতিক নেতারা। আবার কোনো ক্ষেত্রে পুলিশও অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেয় মাদক কারবারিদের। গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও জড়িয়ে পড়ছে মাদকের কারবারে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে গাঁজা-ইয়াবাসহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তবে কিছুদিন পরই আবার প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচায় দেখা যায় তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দৌলতখানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের জন্য চিহ্নিত কিছু স্পট রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ভবানীপুর ইকো পার্ক, মাছ ঘাট, বিএনপি বাজার বেড়িবাঁধ, মাঝির হাট, সেরু মাস্টার পোল, মিঝির হাট, রাধাবল্লভ, কলিমউদ্দিন পাটোয়ারী মোড়, হাসমত বেপারী মোড়, নুরুদীনের দোকান, দলিল উদ্দিন খায়ের হাট, হেলিপ্যাড, মৃধার হাট, রাড়ী জংগল পোল, মুনাফা পাটোয়ারী পোল, আশকর পাটোয়ারী বাড়ি মোড়, নুর মিয়ার হাট। এসব স্থানে প্রতি রাতেই চলে প্রকাশ্যে মাদক সেবন। কখনো কখনো দিনেও চলে গাঁজা-ইয়াবার কারবার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতখান থানার ওসি ফখরুল ইসলাম জানান, বেপরোয়া মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদক নির্মূলে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জড়িতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। গত দুই মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৭টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ৩৭ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ভোলা-২ সংসদ-সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম দৌলতখানে এক সমাবেশে বলেছেন মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই, মাদক কারবারিদের যেখানে যে অবস্থায় পাওয়া যাবে সঙ্গে সঙ্গেই তাদের আটক করে জেলে পাঠানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, হয় মাদক ছাড়, নয়তো এলাকা ছাড়। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সম্পাদক শাহাজান সাজু বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে উপজেলাকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে একযোগে কাজ করতে হবে। স্থানীয় শিক্ষক, সাংবাদিক ও সচেতন অভিভাবকরা পুরো উপজেলাকে মাদকমুক্ত দেখতে চান। এ কাজ সফল করতে প্রশাসন যে কোনো ধরনের সহযোগিতা চাইলে তারা তা করতে রাজি আছেন বলেও জানান।








