২০২৬ বিশ্বকাপের পর একের পর এক জাতীয় দলে কোচ পরিবর্তন হচ্ছে, আর সেই তালিকা থেকে বাদ যায়নি পর্তুগালও। শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে বিদায় নেওয়ার মাত্র চার দিন পরই রবার্তো মার্তিনেজের সঙ্গে পথচলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। এরপর ইউরো ২০২৮ এবং ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে হোর্হে জেসুসকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশও হবে পর্তুগাল।

৭১ বছর বয়সী হোর্হে জেসুসের মতো অভিজ্ঞ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন কোচের আগমনকে পর্তুগিজ ফুটবলের জন্য বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপই সম্ভবত নিজের শেষ বিশ্বকাপ-এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তাই নতুন কোচ দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী অবস্থান নেন, সেদিকেই ছিল সবার নজর।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল কনফিদেনসিয়াল-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হোর্হে জেসুস শুরু থেকেই নিজের কঠোর নিয়মানুবর্তিতা প্রতিষ্ঠা করতে চান। দলে যে খেলোয়াড়ই থাকুক না কেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কোনো ছাড় দেবেন না। আল-নাসরে একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রোনালদোর সঙ্গে তার পেশাদার সম্পর্কের সীমারেখাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

পর্তুগিজ ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম আ বোলা-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী জেসুস বলেন, ‘সে পর্তুগিজ ফুটবলের প্রতীক। তার সঙ্গে কাজ করা আমার জন্য আনন্দের ছিল এবং তার সঙ্গে কাজ করাও খুব সহজ, যতক্ষণ সে নিজের সীমা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমার সীমা বুঝতে পারে।’

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অতীতের অর্জন তার কৌশলগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে না।

টিইউডিএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোনালদোর বয়স ৪১ হলেও তাকে জাতীয় দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই জেসুসের। তার মতে, বয়স নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিতে তিনি বলেন, তার অধীনে আল-নাসরে খেলার সময় রোনালদো কোনো চোটে পড়েননি। প্রতি ম্যাচে তিনি গড়ে আট কিলোমিটারের বেশি দৌড়েছেন এবং ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে খেলেছেন।

তবে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রোনালদোর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বসে তার পরিকল্পনা ও ইচ্ছার কথা শুনবেন বলেও জানিয়েছেন নতুন কোচ।

হোর্হে জেসুসের নেতৃত্বের ধরন তুলে ধরতে অতীতের কিছু ঘটনাও সামনে এনেছে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম। ওয়েরাসের সিদাদে দো ফুটেবোলে দায়িত্ব গ্রহণের সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন তিনি।

জেসুস বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যেই বিশ্বের সেরা দুজন খেলোয়াড়কে কোচিং করিয়েছি। তবে তৃতীয়জনকে অর্থাৎ লিওনেল মেসিকে আমি কোচিং করাব না। আমি কোচিং করিয়েছি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং নেইমারকে।’

একটি পুরোনো ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একদিন নেইমারকে আমার সরাসরি বলতে হয়েছিল-তোমার সময় শেষ।’

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বড় তারকার ক্ষেত্রেও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে তিনি পিছপা হন না।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সার নেতৃত্বে আগামী চার বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন হোর্হে জেসুস। দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলা, যেখানে পর্তুগাল, স্পেন ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজকের ভূমিকা পালন করবে।

দলকে পুরোপুরি নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন আছে কি না?এমন প্রশ্নের জবাবে জেসুস বলেন, বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। তার মতে, পর্তুগালের বর্তমান দলে অসাধারণ প্রতিভাবান তরুণদের একটি প্রজন্ম রয়েছে, যেখানে ৩০ বছরের বেশি বয়সী খেলোয়াড় মাত্র ছয়জন।

নতুন যুগের সূচনা করার আগে নিজের কর্তৃত্ব ও দর্শনের স্পষ্ট বার্তাই দিয়ে রাখলেন হোর্হে জেসুস।

আরএএইচইউএল/এমএমআর