বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আর্লিং হালান্ডের মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল। জার্মান এই কোচের দাবি, তার দল বাড়তে থাকা প্রত্যাশার চাপ সামলাতে পুরোপুরি প্রস্তুত। হালান্ড প্রকাশ্যে নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা কম বলে সব চাপ ইংল্যান্ডের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মিয়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য কোয়ার্টার ফাইনালের আগে চাপটা ইংল্যান্ডের কাঁধে তুলে দিতে চেয়েছেন হালান্ড। শেষ ষোলোতে ব্রাজিলকে বিদায় দিয়ে দুর্দান্ত বিশ্বকাপ যাত্রা অব্যাহত রাখলেও নরওয়ের এই স্ট্রাইকার মনে করেন, তার দলের জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম।
এনআরকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হালান্ড বলেন, ‘আমাদের জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম। আমার মনে হয়, আপনারা সব চাপ ইংল্যান্ডের ওপরই দিন।’
হালান্ডের এই মন্তব্যে বিস্মিত টুখেল। তার মতে, হালান্ডের মতো বিশ্বমানের একজন ফুটবলারের কাছ থেকে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে গণমাধ্যমের চাপ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা তিনি আশা করেননি।
এনআরকে-কে টুখেল বলেন, ‘আর্লিং এমন কথা বলেছে দেখে আমি অবাক হয়েছি। কারণ আমি সব সময়ই ভেবেছি, সে চাপকে ভালোবাসে এবং চাপের মধ্যেই নিজের সেরাটা বের করে আনে। তাই সে চাপটা আমাদের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে দেখে আমি বিস্মিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাপ উপভোগ করি। এটাই বাস্তবতা। কে ফেবারিট, কার ওপর বেশি চাপ—এসব নিয়ে আমি এক মিনিটও ভাবি না। আমি খুব ভালো করেই জানি, ওরাও নিজেদের মধ্যে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেটাই তো স্বাভাবিক।’
ম্যাচের আগে হালান্ড যতই বিনয়ী কথা বলুন না কেন, মাঠে তার পারফরম্যান্স একেবারেই ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। প্রথম চারটি বিশ্বকাপ ম্যাচেই সাত গোল করেছেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার।
অন্যদিকে, ইউরোপের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে হতাশার ইতিহাস কাটিয়ে উঠতে মরিয়া ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে উঠতে হলে তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে হালান্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নরওয়ের আক্রমণভাগকে থামানো।
মিয়ামির এই লড়াইয়ের বিজয়ী দল সেমিফাইনালে কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিতব্য আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে। তবে শেষ চারের স্বপ্ন দেখার আগে টানা সাত ম্যাচ অপরাজিত থাকা ইংল্যান্ডকে রক্ষণে দৃঢ়তা দেখিয়ে নরওয়ের আক্রমণ সামলাতে হবে।
কোন দলের ওপর বেশি চাপ রয়েছে? শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে নরওয়ে কোচ স্তালে সোলবাক্কেন বলেন, ‘আমার মনে হয় ইংল্যান্ডের ওপর আমাদের চেয়ে বেশি চাপ রয়েছে। তবে আমরাও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে চাপ অনুভব করি। কিন্তু খেলা শুরু হয়ে গেলে খেলোয়াড়রা চাপ নিয়ে খুব বেশি ভাবেন না। তখন এটি ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনের লড়াই। চাপ নিয়ে আলোচনা মূলত ম্যাচ শুরুর আগেই হয়।’
আরএএইচইউএল/এমএমআর








