বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জন্য ডেঙ্গু একটি উল্লেখযোগ্য জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত থাকাকালীন রোগীর শরীরে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। আবার রোগ থেকে সেরে ওঠার পরও দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। আসুন জেনে নিই, ডেঙ্গু পরবর্তী সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে।

ডেঙ্গু পরবর্তী সমস্যা

  • দীর্ঘদিন দুর্বলতা
  • ক্লান্তি
  • অবসাদ
  • মাথাব্যথা
  • শরীরের বিভিন্ন গিড়ায় ব্যথা
  • মনোযোগহীনতা
  • খাবারে অরুচি
  • মাথা ঘোরানো
  • নিদ্রাহীনতা
  • কখনো অতিনিদ্রা ইত্যাদি।

এ ছাড়া ডেঙ্গু রোগের জটিলতা হিসেবে রোগাক্রান্ত অবস্থায় অনেকের ফুসফুসে পানি জমা, পেটে পানি জমা, পিত্তথলি ও মস্তিষ্কে প্রদাহ ইত্যাদি হতে পারে। এর ফলস্বরূপ অনেকের স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, খিঁচুনি, পক্ষাঘাতগ্রস্থতা, নিউমোনিয়া, সুপার ইনফেকশন প্রভৃতির রেশ থেকে যেতে পারে।

আরও পড়ুন

বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে স্বেচ্ছাসেবীদের ভাবনা

ডেঙ্গু পরবর্তী জটিলতা কাটাতে কী করবেন?

ডেঙ্গু-পরবর্তী অবসাদগ্রস্ততা সাধারণত কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যদি দিনদিন অবস্থার উন্নতি না হয়ে অবনতি হয় অথবা খিঁচুনি, পক্ষাঘাতগ্রস্থতার মতো জটিলতা স্থায়ী হয়, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু পরবর্তী অবসাদগ্রস্থতার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মেনে চললে সুফল মিলবে।

  • সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন।
  • পরিমিত পরিমাণ তরল ও তরলজাতীয় খাবার পান ইত্যাদি।
  • আমিষ জাতীয় খাবার, যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, স্যুপজাতীয় খাবার গ্রহণ করা।
  • খাবারগুলো অবশ্যই আঁশযুক্ত, ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ হতে হবে।
  • পাশাপাশি ফল ও ফলের রস গ্রহণ করুন।
  • ফাস্টফুড, ভাজা-পোড়া খাবার, অতিরিক্ত চর্বি ও মসলাদার খাবার পরিহার করুন।
  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, ভিটামিন-ডি ইত্যাদি সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন।
  • এ ছাড়া রোগ থেকে উঠেই অতিরিক্ত পরিশ্রম শুরু না করাই ভালো।
  • প্রাথমিকভাবে ২-৩ সপ্তাহ বিশ্রাম নিলে সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়।
  • পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমও দরকার।
  • দুশ্চিন্তা পরিহার করুন। বিভিন্ন ধরনের রিলাক্সেশন থেরাপি এ ক্ষেত্রে উপকার করতে পারে।
  • অনেক সময় মাংস বা গিড়ার ব্যথার জন্য ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে শুরু করে সেরে ওঠার পরও বিভিন্ন ধরনের জটিলতায় ভুগতে হয় রোগীকে। এজন্য সর্বোপরি ডেঙ্গু ও এর বিভিন্ন জটিলতা থেকে বাঁচতে সামাজিক সচেতনতার পাশপাশি মশক নিধন কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। কারণ ডেঙ্গু চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

এসইউ