মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালে যে বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, ঠিক একই আদর্শ নিয়ে ২৪-এ এই রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থান হয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশনের প্রবেশমুখে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ছাত্রদল নেতা ওয়াসীম আকরামের স্মরণে ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভ’এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী একথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে দেশকে কার্যত পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের একটি সেবাদাসে পরিণত করা হয়েছিল। সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশেই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী হাসিনার পতনের পর আজ আমরা একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এসে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদী খুনি হাসিনা অথবা তার দলের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা হওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যতদিন ছাত্র-জনতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা জীবিত রয়েছেন, ততদিন স্বৈরাচারী শক্তির পুনর্বাসনের চেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নির্দেশদাতা ও পালনকারী, সবাইকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে ইশরাক হোসেন বলেন, আজ ১৬ই জুলাই দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজ আমি এসেছি সেই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করার লক্ষ্যে।

শহীদ ওয়াসীমের বাবার বক্তব্যের সূত্র ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য এই আন্দোলনটি গড়ে তুলেছিলাম। এখানে যাতে আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য আগামীতে গড়ে না ওঠে, সেটার জন্য আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমি সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাব। এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আমরা তা সংরক্ষণ করব এবং সম্ভব হলে প্রত্যেকটি জেলায় একটি করে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হবে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, স্বৈরাচারী হাসিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন খবর ছড়াচ্ছে, সে নাকি ফেরত আসবে বা তারা আবারও পুনর্বাসিত হওয়ার চেষ্টা করছে। আমি আপনাদের কাছে কঠোরভাবে একটি বার্তা দিয়ে যেতে চাই, বাংলাদেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদী হাসিনার অথবা তার দলের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা হওয়ার কোনো ধরনের সুযোগ নেই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে প্রথম শাহাদাতবরণকারী ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শামসুল আলম বলেছেন, আমার ছেলে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন উৎসর্গ করেছে, অথচ এখন দেশে উল্টো বৈষম্য তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সেদিন একটা পথসভার আয়োজন করা হয়েছিল। যাওয়ার সময় ওয়াসিমের ছবি যখন দেখি, আমি আর সামনে আগাতে পারিনি, চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। কিন্তু আজকে দেখি ওরা আর আমাদের মাঝে নাই। কেন নাই, আমি বুঝতে পারতেছি না। কীসের জন্য নাই, আমি এটাই বুঝতে পারতেছি না।

নিজেদের মধ্যে নতুন করে বৈষম্য সৃষ্টির ইঙ্গিত দিয়ে শামসুল আলম বলেন, আমি একটাই অনুরোধ করব, একটা ব্রিজ বানাতে গেলে কি শুধু খুঁটি লাগে? কয়েকটা জিনিস মিলেই তো একটা ব্রিজ হয়। আমরা সবাই মিলেমিশে কাজ করব, সবাই খুঁটি হতে যাবেন না। কেউ পাতারি হব, কেউ রড-সিমেন্ট হব, সবকিছু মিলেই একটা ব্রিজ হবে।

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির।