মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহম্মেদ আযম খান বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংসদকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বিরোধী দলও সহযোগিতা করছে। তারপরেও সংসদে বিরোধী দল গরম গরম অনেক কথা বলে- এটা মেঠো বক্তৃতা, রাজনৈতিক বক্তব্য। আমরা সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) খেলার মাঠে বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বিশেষ স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।রংপুরের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘রংপুরের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ একটু হলেও বাড়বে। আপনাদের কথা দিয়ে গেলাম।’ তিনি শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘তারা দুর্নীতি-লুটপাট করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে গেছে। আমরা বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের বাংলাদেশ, সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়ে তুলব। বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়বো।’স্মরণ সভায় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন তার ছেলে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের রায় কার্যকর করার দাবি জানান।সভায় বেরোবি উপাচার্য বলেন, ‘আমরা শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যারাই জড়িত ছিল, তাদের সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছি। সাজা হয়েছে অনেকের। ’এই সভা থেকে সকলকে গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।সভায় বক্তব্য দেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বেরোবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।এদিকে, আবু সাঈদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে।সকালে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাইদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে দিবসটি শুরু হয়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আবু সাইদের কবর জিয়ারত করেন। সেখানে কবর জিয়ারত শেষে মোনাজাতে অংশ নেন তারা।এ সময় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, বড়ভাই রমজান আলী, স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম আবু সাঈদের বাসায় যান; সেখানে তার বাবা, মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ছাত্রদল সব সময় শহীদ আবু সাইদের পরিবারের সঙ্গে থাকবে।শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রংপুরের কৃতিসন্তান শহীদ আবু সাঈদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পুলিশের গুলি, টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেটের সামনে বুক পেতে দুই হাত প্রসারিত করে অবস্থান নেওয়া এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তিনি। তার নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন পরবর্তীতে এক দফার আন্দোলনে রূপ লাভ করে।’তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছে। অসংখ্য মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। ছাত্রদল নিহতদের পরিবারের পাশে ছিল এবং থাকবে। তিনি গুরুতর আহতদের চিকিৎসাসহ সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান।’এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার মানুষ শহীদ আবু সাইদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত করেন।
রাজনীতি
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অঙ্গীকার করলেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

শেয়ার করুন







