জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, অতীতে পরিকল্পিতভাবে মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুর করে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হতো। তবে গত দুই বছরে দেশে একটি মন্দিরেও হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে ঢাকার ধামরাই পৌর এলাকার কায়েতপাড়ায় শ্রী শ্রী যশোমাধবের রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আগে পূজার সময় বা বিভিন্ন সময়ে একটি মন্দিরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হতো, প্রতিমার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হতো। এগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে করা হতো। কিন্তু গত দুই বছরে একটি মন্দিরেও হামলা হয়নি। আমাদের সংখ্যালঘু ভাইদের বলি, কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। অনেকে মন্দির পাহারাও দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, তার নিজ জেলা বরগুনায় হিন্দু ও রাখাইনসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তার ভাষ্য, হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে রাজনীতি করার যে প্রবণতা ছিল, সেটি সফল হয়নি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে চিফ হুইপ বলেন, এ দেশের সব নাগরিক সমান অধিকার পাবেন। হিন্দু যেমন সুবিধা পাবেন, মুসলমানও তেমন পাবেন। সবাই মিলে দেশ গঠন করতে হবে।

রথযাত্রা উপলক্ষে বিকেল পাঁচটার দিকে মাধব মন্দিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে শ্রী শ্রী যশোমাধবের বিগ্রহ রথে স্থাপন করা হয়। পরে রথখোলা মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ এবং ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ মন্দির কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাস এবং সঞ্চালনা করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি পুরোহিতের হাতে প্রতীকী রশি তুলে দেন। পরে ভক্তরা পাটের রশি ধরে রথ টেনে শ্রী শ্রী যশোমাধবকে যাত্রাবাড়ী মন্দিরে নিয়ে যান। সেখানে নয় দিন অবস্থানের পর আগামী ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে বিগ্রহটি পুনরায় মাধব মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হবে।

মাহফুজুর রহমান নিপু/কেএইচকে/জেআইএম