চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী তুলসীধামের রথযাত্রা এখন শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়, বরং সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন জোরদারের একটি সর্বজনীন আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমন মন্তব্য করে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, প্রায় তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ রথযাত্রা আজ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা এখন সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তুলেছে। তুলসীধামের তিন শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা এখন সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নন্দনকাননের ঐতিহাসিক রথের পুকুরপাড়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হবে এবং এ জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, দেশের সব ধর্ম-বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

রথযাত্রা উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার হরিশ কুমার। তিনি বলেন, রথযাত্রা সর্বজনীন করুণার উৎসব। এ সময় ভগবান জগন্নাথ মন্দির থেকে বের হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আসেন।

আরও পড়ুন

মানিকগঞ্জে রথযাত্রা উৎসব শুরু

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত, কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি হিরন্ময় ধর ও সাধারণ সম্পাদক বিধান ধরসহ অন্যরা।

পরে অতিথিরা তুলসীধামের মোহন্ত শ্রীমৎ দেবদীপানন্দ পুরী মহারাজের নেতৃত্বে রথের দড়ি টেনে কেন্দ্রীয় রথপরিক্রমার উদ্বোধন করেন।

কেন্দ্রীয় রথযাত্রায় তুলসীধামের রথ ছাড়াও নগরের বিভিন্ন মঠ ও মন্দিরের রথ অংশ নেয়। কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, ফটিকছড়ি, বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, রামু, উখিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভক্তরা শোভাযাত্রায় যোগ দেন। নামসংকীর্তন, ঢোল-করতাল, শঙ্খধ্বনি ও জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

রথপরিক্রমা নন্দনকানন থেকে নিউমার্কেট, লালদীঘি, আন্দরকিল্লা, চেরাগী পাহাড়, প্রেস ক্লাব ও লাভলেইন ঘুরে আবার রথের পুকুরপাড়ে এসে শেষ হয়।

রথযাত্রা উপলক্ষে তুলসীধামে দিনব্যাপী পূজা, নামযজ্ঞ, ধর্মীয় সংগীত, চিকিৎসা ক্যাম্প এবং ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়।

এমআরএএইচ/এএমএ