ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। গত অর্থবছরের ৬ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় এবার বাজেটের আকার প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। এবারের বাজেটে সড়ক উন্নয়ন, মশা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসি নগর ভবনের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম।
ঘোষিত বাজেটে মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ডিএনসিসি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এ ছাড়াও সরকারি ও বৈদেশিক অনুদান, সম্পদ বিক্রি হতে বাকি টাকা আয় হবে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি। বাজেটে রাজস্ব ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা এবং অর্থবছর শেষে সমাপনী স্থিতি থাকবে ৪২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
এ দিকে চলতি অর্থবছরে ডিএনসিসির প্রারম্ভিক স্থিতিও কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যেখানে প্রারম্ভিক স্থিতি ছিল ৮৫০ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬০ কোটি ৪৪ লাখ টাকায়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বাস্তবতার ভিত্তিতে এবং আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রেখে বাজেট করেছি। গত বছরের বাজেটটি আমাদের কাছে বাস্তবসম্মত মনে হয়নি। বাস্তবে আয় কত হবে এবং ব্যয় কত হবে, তা বিবেচনায় নিয়েই নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রশাসক বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেন ও ম্যানহোল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের আধুনিকীকরণ, সড়ক নিরাপত্তার জন্য আধুনিক লাইটিং, হকার ব্যবস্থাপনা, কোরবানির হাট উন্নয়ন, মহাখালী বাস টার্মিনালের আধুনিকীকরণ এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশাসক বলেন, ঢাকা একটি ছোট জায়গায় গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত জনবহুল নগরী। বহু বছরের জমে থাকা বর্জ্য রাতারাতি অপসারণ সম্ভব নয়। আমরা কাজ শুরু করেছি। নগরবাসীকেও ধৈর্য ধরতে হবে এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বাজেট ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও জলাবদ্ধতা নিরসন, মশা নিয়ন্ত্রণ, হামের টিকাদান কর্মসূচি, কোরবানির হাটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিচ্ছন্নতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকা পর্যায়ক্রমে পরিচ্ছন্ন করে ‘গ্রিন ঢাকা’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ঢাকা আমাদের ভবিষ্যতের নগরী। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতেই বাস্তবমুখী এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।








