ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৫২৭ দশমিক ৭৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় ডিএনসিসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাজেট ঘোষণা করেন ডিএনসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
এ সময় প্রশাসক বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে নগরবাসীর উন্নয়ন, রাজস্ব আদায় ও বাস্তবায়নসহ বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে এ বছর একটি যুগোপযোগী বাস্তবমুখী ও উন্নয়নমূলক বাজেট গ্রহণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হলে নিরাপদ হবে সড়ক: ডিএনসিসি প্রশাসক
প্রশাসক জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় স্বল্প সংখ্যক বাজেট নিয়েও নগরবাসীর উন্নয়নে বিভিন্ন রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারসহ ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ, সফলভাবে হামের টিকা প্রদান, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণসহ আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সফলতা অর্জন করেছি।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি অতি বৃষ্টির ফলে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শনসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, বাসা বাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি , ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করা, করপোরেশনের আওতাধীন খালগুলো দখলমুক্ত করে খাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম জোরদার , প্রধানমন্ত্রীর ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা বাস্তবায়নে বৃক্ষরোপণ অভিযান জোরদার করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা ও খেলাধুলার সামগ্রী প্রদানসহ নগরবাসীর সেবামূলক কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি।
বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রীর ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাজেটকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরবাসীর সহযোগিতা চাইলেন ডিএনসিসি প্রশাসক
প্রশাসক জানান, এবারের বাজেটে ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণ করা, নগরের জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, বিভিন্ন এলাকার ভেঙে পড়ার রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, ম্যানহোল ব্যবস্থা আধুনিককরণ, বাসা বাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ,আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন, রোড লাইট ও রোড সেফটির জন্য আধুনিক লাইটিং ব্যবস্থা, করপোরেশনের বিভিন্ন মার্কেট ও বাজার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, হকারদের জন্য একটি বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ, বস্তিবাসী উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, ভবিষ্যতে কোরবানির হাট ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল সংস্কার করে যাত্রী কল্যাণমুখী করা, বিভিন্ন খাল দখলমুক্ত করে সংস্কারের মাধ্যমে খালের প্রবাহ ধরে রাখাসহ নগরবাসীর সেবায় একটি উন্নত, পরিকল্পিত ও আধুনিক বসবাসযোগ্য নগরী গড়ার পরিকল্পনায় একটি বাস্তবমুখী বাজেট ঘোষণা করছি।
মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা নগরীর সব কার্যক্রম ও সংস্থা সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত নয়। রাজউক, ওয়াসা ও পিডব্লিউডি জড়িত আছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধমুক্ত উত্তর সিটি করপোরেশন গড়ে তোলা হবে। এজন্য নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এমএমএ/এমএমকে








