চট্টগ্রামে নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর ভৌগোলিকভাবে যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে তিন ইউনিয়নে আজ বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। এর আগে গতকাল বুধবার ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ এই হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা দেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হরতালের সমর্থনে ফেনী-খাগড়াছড়ি সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

হরতালের ফলে উপজেলার নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নের ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক, পেলাগাজী দিঘি-হেয়াঁকো সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত পণ্যবাহী ও দূরপাল্লার যানবাহন আটকা পড়ে। এ সময় বন্ধ থাকে বিপণিকেন্দ্রসহ অধিকাংশ দোকানপাট। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ফার্মেসি, ক্লিনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকে। পরে বিকেলে ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের হেঁয়াকো বাজার এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্যে দিয়ে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।

সমাবেশে আন্দোলনকারীরা বলেন, নবগঠিত উপজেলার সদর দপ্রত এমন স্থানে হওয়া উচিত, যেখানে উত্তরাঞ্চলের সব ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। তাঁদের অভিযোগ, সরকার ঘোষিত পশ্চিম ভূজপুর মৌজা উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের জন্য ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক নয়।

বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসনিক কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় সদর দপ্তরের স্থান পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

এর আগে ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার অনুমোদন দেওয়া হয়। সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণ করা হয় ভূজপুর থানা কার্যালয়-সংলগ্ন স্থানে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ভূজপুর মৌজা বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে হলেও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে এর দূরত্ব ২৫ থেকে ৩৮ কিলোমিটার পর্যন্ত।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, হরতাল চলাকালে পরিস্থিতি শান্ত ছিল। বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছিল।

‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল। আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।