গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলায় তাঁকে রিমান্ডে শেষে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইন্সপেক্টর কে এম রাকিবুল হুদা তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

অন্যদিকে হরিদাসের পক্ষে আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের উত্তরা পশ্চিম থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত ১৩ জুলাই হরিদাসকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে হরিদাসের বিরুদ্ধে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম ১২ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। মামলার পর ওই দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

রিমান্ড শেষে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, হরিদাসকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে, তাঁর ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে কারা বা কী কারণে অর্থ জমা করেছে এবং ওই জমা করা অর্থ কার কাছে হস্তান্তর বা কোথায় কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তকাজে সহায়ক হবে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। অনুসন্ধানের অভিযোগ পর্যালোচনায় জানা যায়, হরিদাস চন্দ্র তরণী একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং তিনি ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারসহ হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

তাঁর নামে থাকা ৯ ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য কাগজপত্র বিশ্লেষণে জানা যায়, তাঁর ব্যাংক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসাবহির্ভভূত নগদ অর্থ জমা হয়েছে। হরিদাস চন্দ্র তরণীসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র হুন্ডি তথা দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার করতেন। ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অপরাধলব্ধ অর্থ অর্জনসহ অর্জিত টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা গোপন করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে হরিদাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময় নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ আছে। রাজধানীর বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা রয়েছে।