সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাংবাদিক সমাজ অগ্রনায়কের ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সাংবাদিকরা সাহসিকতা, পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকদের এই ভূমিকা জাতি দীর্ঘদিন স্মরণ রাখবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত দেশীয় মৌসুমি ফল উৎসব ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উৎসবমুখর পরিবেশে দেশের বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমি ফলের প্রদর্শনী ও পরিবেশনের পাশাপাশি সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহদী আমিন শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তাদের ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন প্রত্যয় লাভ করেছে।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতীয় ঐক্য, আইনের শাসন, সুশাসন, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও সুসংহত করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন
জিয়াউর রহমান হত্যায় আটক মেজর মোজাফফরকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকারের মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার নিরলস কাজ করছে। উন্নয়নের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী করা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ডিআরইউ এবং সাংবাদিক সমাজের সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, দেশীয় ফল শুধু আমাদের খাদ্যাভ্যাসের অংশ নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সুস্বাস্থ্যের প্রতীক। দেশীয় ফলের উৎপাদন ও ভোগ বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসচেতন সমাজ গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
আরও পড়ুন
আন্দোলনকারীদের ব্রিফিং / ফের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, জনদুর্ভোগ বিবেচনায় কর্মসূচি স্থগিত
তিনি বলেন, দেশের সাংবাদিকদের অন্যতম বৃহৎ পেশাদার সংগঠন ডিআরইউয়ের জন্য একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতি রয়েছে। তবে জমি বরাদ্দের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন তিনি।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও সংবিধানে এর প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো সাংবাদিকদের কল্যাণে রাষ্ট্র কখনো দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করেনি।
তিনি আরও বলেন, ডিআরইউ দেশের প্রায় দুই হাজার পেশাদার মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকের প্রাণের সংগঠন এবং তাদের ‘সেকেন্ড হোম’। ডিআরইউয়ের জমি বরাদ্দের স্থায়ী সমাধান করার জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) ইরাদুল হক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ডিআরইউয়ের সাবেক সভাপতি এম শফিকুল করিম, সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ।
এনএইচ/কেএসআর







