নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে স্পিডবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্য, ডুবুরি মো. সাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩ মিনিটে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস।

আজ বৃহস্পতিবার রাতে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ ফায়ার ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে স্পিডবোটের রক্ষণাবেক্ষণ ও কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ চলাকালে ডুবুরি মো. সাদিক নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ নৌবাহিনী (নেভি) এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দলও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।

দিনভর যৌথ অভিযান চালানোর পর সন্ধ্যা ৭টা ৩ মিনিটে আরিচা স্থল-কাম নদী ফায়ার স্টেশন, মানিকগঞ্জের (সংযুক্ত টঙ্গী ফায়ার স্টেশন) ডুবুরি মেরাজ আলী নিখোঁজ সাদিককে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল (এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি)। এ সময় অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান এবং ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছিল, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কুমরাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. সাদিক ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে যোগ দেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে ডুবুরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও অর্জন করেছিলেন।