সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়া, ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি- বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নানা প্রতিকূলতার মুখে এই পতন ঘটল।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই আয় ছিল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার, যেখানে প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।অর্থবছরের জন্য সরকার ৫৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তা অর্জিত হয়নি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ইপিবি ৫৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।বিশেষজ্ঞ ও শিল্প সংশ্লিষ্টরা রপ্তানি আয় কমার জন্য বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম পাঁচটি।ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি: যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর প্রথমে মার্কিন বাজার ও পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজার থেকে ক্রয়াদেশ কমে যায়। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই শুল্কনীতি ধাক্কা দেয় এবং পোশাক পণ্যের চাহিদা কমে যায়।ভূরাজনৈতিক সংকট: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা শিল্প সংশ্লিষ্টদের।বৈশ্বিক চাহিদা মন্দা: বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়া ও কাজের অর্ডারের প্রবাহ মন্থর হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন বাজারে অর্ডারের বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।চীনের বাড়তি মনোযোগ: বাংলাদেশ যেসব বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, সেখানে চীন বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছে। চীনারা মার্কিন বাজারে অধিক শুল্ক এড়াতে ইউরোপের ক্রেতাদের কম দাম অফার করে বেশি অর্ডার নিয়ে নিচ্ছে।উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি: কাঁচামালের দাম ও পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে।অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পোশাক খাতের রপ্তানি ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ কমে ২ হাজার ৮৫৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ, ওভেন পোশাক কমেছে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি রয়েছে ইতিবাচক ধারায়। প্রথম ৯ মাসে ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়ে ৮৮ কোটি ডলার আয় হয়েছে। হোম টেক্সটাইল খাতে রপ্তানি আয় দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ৬৭ কোটি ডলারে নেমেছে। প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে ৯ দশমিক ২১ শতাংশ কমে ৭৩ কোটি ডলার আয় হয়েছে। পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৩০ শতাংশ কমে ৬২ কোটি ডলারে নেমেছে।নিট পোশাক মালিকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধাক্কা দিয়েছে। ফলে পোশাক পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। বিশেষ করে মার্কিন বাজারে অর্ডারের ধারাবাহিক পতন দেখা যাচ্ছে।বিকেএমইএ নেতারা বলছেন, ‘যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ক্রয়াদেশ আরও কমার শঙ্কা আছে। যেটুকু অর্ডার আছে, তার জন্য শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহ ঠিক রাখতে হবে। সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।'শিল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের স্থিতিশীলতা ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে। আগামী দিনে ক্রয়াদেশ বাড়বে।