ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর কৃষি খামার এখন দেশের কৃষি খাতের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই খামার থেকে উৎপাদিত হচ্ছে সারাদেশে ব্যবহৃত ‘ভিত্তি বীজে’র (Foundation Seed) সিংহভাগ। মানসম্মত বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনন্য ভূমিকা রাখছে এই ঐতিহাসিক খামার।বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) আওতাধীন এই খামারটি প্রায় ২ হাজার ৭৩৭ একর জমির ওপর বিস্তৃত। খামারের ৫ টি ইউনিট–গোকুলনগর, পাথিলা, মথুরা, করিঞ্চা ও কুশাডাঙ্গা থেকে পরিকল্পিতভাবে ধান, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন শস্যের বীজ উৎপাদিত হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে এখানে উৎপাদনের গুণগত মান ও পরিমাণ দুই-ই বেড়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, একসময়ের শ্রমনির্ভর এই খামারে এখন লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সুষম সেচ ব্যবস্থা, পাকা ড্রেনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ এবং আধুনিক হারভেস্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ব্যবহার উৎপাদন প্রক্রিয়াকে করেছে দ্রুত ও দক্ষ। ফলে কৃষকেরা এখন হাতের নাগালেই উচ্চফলনশীল ও মানসম্মত বীজ পাচ্ছেন।খামারের কর্মকর্তারা জানান, এখান থেকে উৎপাদিত বীজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। এটি কেবল একটি খামার নয়, বরং দেশের কৃষি অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। উন্নত বীজ সরবরাহের মাধ্যমে কৃষকদের সমৃদ্ধির পথ দেখাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান।দত্তনগর কৃষি খামারের যুগ্ম পরিচালক কে এম কামরুজ্জামান শাহিন বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা ভিত্তি বীজের একটি বড় অংশই এই খামার থেকে আসে। কৃষি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সরকারের লক্ষ্য পূরণে এটি বড় ভূমিকা রাখছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই কার্যক্রম ভবিষ্যতে দত্তনগর খামারকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।’\
রাজনীতি
দেশের ভিত্তি বীজের বড় জোগানদাতা দত্তনগর

শেয়ার করুন







