বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, গবেষক, লেখক, বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ১২টায় তাঁর মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনা হলে কলা ভবনের প্রধান ফটকের সামনে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন করে ভাসানী জনশক্তি পার্টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ, বাংলাদেশ জনঅধিকার পার্টি, স্বপ্নযাত্রা’ ৭৮, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, জাতীয় কবিতা পরিষদ, সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি অত্যন্ত বিদগ্ধ মানুষ ছিলেন। তাঁর কর্ম ও চিন্তার মাধ্যমে তিনি আমাদের আলোকিত করেছেন। এমন একজন মানুষের চলে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর কর্ম ও চিন্তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পথ দেখাবে। আমি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘তিনি তাঁর সাহিত্য, প্রবন্ধ ও লেখনীর মাধ্যমে আমাদের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকবেন। ষাটের দশকের জাতীয়তাবাদী জাগরণের যে উজ্জ্বল প্রজন্ম আমরা দেখেছি, তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও ব্যাকরণ নিয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করেছেন তিনি। সমাজ ও সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রে চরমপন্থা কখনো তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনীগ্রন্থ রচিত হওয়া উচিত।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আজিজুর রহমান বলেন, ‘তিনি আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। খুব কাছ থেকে দেখেছি, তাঁর চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ। তিনি যেমন রেনেসাঁর মানবতাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন, তেমনি বার্ট্রান্ড রাসেলের যুক্তিবাদী দর্শন থেকেও অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। সারা জীবন তিনি দেশের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। আল্লাহ তাঁর রুহের মাগফিরাত দান করুন।’