ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে যাত্রীদের চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রীরা। বর্তমানে এই রুটে সপ্তাহে মাত্র ৩ দিন একটি করে ফ্লাইট আসা-যাওয়া করছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।১৯৮৫ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুরে ১৬৩ একর জমির ওপর এই বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৫ সালের ৩ ডিসেম্বর এর বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়। একসময় এই রুটে প্রতিদিন সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে অন্তত ৮টি ফ্লাইট চলাচল করত। তবে পদ্মা সেতু চালুর পর পর্যায়ক্রমে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে কেবল বাংলাদেশ বিমান সপ্তাহে ৩ দিন (বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও রোববার) ফ্লাইট পরিচালনা করছে।সম্প্রতি বরিশাল বিমানবন্দরে কথা হয় নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের সঙ্গে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘কয়েক দিন আগে জরুরি কাজে ঢাকা যাওয়ার প্রয়োজন হলেও সেদিন কোনো ফ্লাইট না থাকায় বাসে করে ঢাকায় যেতে হয়েছে। এতে মূল্যবান সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারিনি। আবার অনেক সময় ঢাকায় বিভিন্ন মিটিংয়ে জরুরি কাজে যেতে হয়, কিন্তু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।’ বরিশালে অন্তত সপ্তাহে ৫ দিন ফ্লাইট চালুর দাবি জানান এই প্রকৌশলী। বরিশাল জেলা নাগরিক সমাজ কমিটির আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন বিমান চলাচল করলে বরিশালে শিল্পায়নের বিকাশ ঘটবে। পাশাপাশি ঢাকা থেকে আকাশপথে ফ্লাইট সংখ্যা কম থাকায় বিদেশিরা কষ্টদায়ক জার্নির কারণে ব্যবসার কাজে বরিশালে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে শিল্পায়ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।’ বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানও যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রতিদিন ফ্লাইট চালুর দাবি জানান।বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব শাখার পরিচালক ড. আতিকুর রহমান বলেন, ‘রাতে বিমান ওঠানামার ব্যবস্থা করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ জরুরি স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে দ্রুত ঢাকা পৌঁছাতে পারতেন।’বরিশাল বিমানবন্দরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। তবে বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে।বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের স্টেশন ম্যানেজার শাহিন ভূঁইয়া বলেন, ‘আগে সপ্তাহে ২ দিন ফ্লাইট ছিল, এখন তা বাড়িয়ে ৩ দিন করা হয়েছে। বর্তমানে ফ্লাইট সংখ্যা আর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই।’ যাত্রীর চাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যাত্রীর সংখ্যা আগের চেয়ে বেশ ভালো।’ তবে ঢাকা বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রী সংখ্যা মাঝেমধ্যে অনেক কম থাকে।/