চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ফরিদগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. সাইফুল আলমকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন কর্মচারীরা। আজ রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে দুপুরে ধানুয়া গ্রামে গ্রাহক ও পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সরেজমিন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ক্ষোভের মধ্যে গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে উপজেলার চির্কা গ্রামে অবস্থিত পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে মো. ইব্রাহিম ও মো. আব্দুল কাদের নামে দুই কর্মী স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে মারধরের শিকার হন। ওই ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা করা হয়।

আজ দুপুরে ডিজিএমের নির্দেশে পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীরা মামলার অভিযুক্ত গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামে যান। সেখানে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন তারা। একপর্যায়ে মারধরের শিকার হন পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা।

খবর পেয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখান থেকে ফিরে ক্ষুব্ধ পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীরা ডিজিএম এর অপসারণ দাবিতে তাকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষুব্ধ লাইনম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, `অযোগ্য ডিজিএম মো. সাইফুল আলমকে আমরা আর এ কার্যালয়ে দেখতে চাইনা। সে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় পরিচালনায় ব্যর্থ। তার কারণে পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীদের বিভিন্ন স্থানে মারধরের শিকার হতে হচ্ছে। তাকে দ্রুত কার্যালয় থেকে অপসারণ না করা হলে আমরা আর কাজে ফিরব না। কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

ধানুয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক আশ্রাফ আলী বলেন, `আমাদের পল্লী বিদ্যুতের বিল বকেয়া নেই, বিদ্যুতের লোকজন এসে আমাদের মিটারের লাইন খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকে মারধর করে। দিনরাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমরা ঠিকমতো ৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাই না। তার ওপর আবার বাড়তি বিলের জন্য চাপ দেওয়া হয়। আমরা সমাধানের জন্য অফিসে গেলেও কোন সমাধান পাইনা। এই ডিজিএমকে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হোক।'

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহআলম শেখ বলেন, `পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদাসীন ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিদ্যুৎ কর্মী ও সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে দূরত্বের সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য গেলে ডিজিএমসহ সংশ্লিষ্টরা তা সমাধান দূরের কথা, উল্টো মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। গ্রাহকদের বকেয়া না থাকলেও তারা কি কারণে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যায়, বর্তমান উত্তপ্ত পরিবেশের জন্য ডিজিএম শতভাগ দায়ী।'

এ সময় অবরুদ্ধ থাকায় ডিজিএম মো. সাইফুল আলম বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদুল্লাহ বলেন, “ধানুয়া গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক ও কর্মীদের মধ্যে হট্টগোলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, `খবর পেয়ে আমি ফরিদগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ে গিয়ে আন্দোলনরত বিদ্যুৎকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য শুনেছি। এ ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'