পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করেছেন উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের বিবেকানন্দ নগরের বাসিন্দাদের একাংশ।
গত ৫ জুলাই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ৭ জুলাই রাতে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর অভিযানে তিনি নিহত হন।
এনকাউন্টারের পর শ্যামনগরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান এবং মিষ্টি বিতরণ করে ঘটনাকে স্বাগত জানান। অনেককে শঙ্খ বাজাতেও দেখা যায়।
প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন এবং 'দিনে ধরা, রাতে খরচ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সঙ্গীতা দাস বলেন, বারুইপুরের ঘটনার মতো অপরাধ যারা করবে, তাদের সবার বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ কমবে এবং নারীরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।
আরেক অংশগ্রহণকারী রূপসা বিশ্বাস বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, দিনে ধরা, রাতে খরচ—মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই অবস্থানকে আমরা সমর্থন করি।
এদিকে, বারুইপুরের ওই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর এবং গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ জানায়, বারুইপুর থানার স্পেশাল অপারেশন টিম ও এসটিএফ যৌথ অভিযানে চারজনকে গ্রেফতার করে। তদন্তে উঠে আসে, প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে সিসিটিভি ফুটেজে নাবালিকার হাত ধরে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
পুলিশের দাবি, ৭ জুলাই রাতে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় তদন্তে নিয়ে গেলে প্রভাস মণ্ডল পুলিশের একটি রাইফেল ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং এক রাউন্ড গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে তিনি আহত হন। পরে তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডিডি/এমএসএম







